শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন

যে সাহাবি ফেরেশতাদের ছায়া পেয়েছেন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন

তৃতীয় হিজরিতে সংঘটিত হয় উহুদ যুদ্ধ। মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল এই যুদ্ধে। ৭০ জনেরও বেশি সাহাবি শহীদ হন এতে। ইতিহাসের উজ্জ্বল পাতায় সংরক্ষিত তাঁদের নাম। উহুদ যুদ্ধে শহীদদের মধ্যে একজন সাহাবি ছিলেন, যাঁর জানাজায় ফেরেশতারা ছায়া দিয়েছিলেন। দাফনের পরও যাঁর শরীরে কোনো পরিবর্তন হয়নি। শাহাদাতের পর যাঁর সঙ্গে আল্লাহ তাআলা সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি হলেন বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হারাম আল-আনসারি (রা.)।

উহুদের যুদ্ধে শহীদদের মধ্যে একজন ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে হারাম (রা.)। শহীদ হওয়ার পর মুশরিকরা তাঁর শরীর বিকৃত করেছিল। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে হারাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আমার পিতাকে (উহুদ যুদ্ধের দিন) তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকৃত অবস্থায় রাসুল (সা.)-এর কাছে নেওয়া হয়। আমি পিতার চেহারা খুলতে গেলে আমাকে আপনজনরা নিষেধ করে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফেরেশতারা নিজেদের ডানা দিয়ে তাঁকে ছায়া দিয়ে রেখেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১২৯৩, মুসলিম, হাদিস : ৬৫০৮)

আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন : জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘উহুদ যুদ্ধের পর আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম (রা.) শহীদ হলে রাসুল (সা.) আমাকে, হে জাবের, আল্লাহ তাআলা তোমার পিতার সঙ্গে যে কথা বলেছেন আমি কি তা অবহিত করব না? ইয়াহইয়া (রহ.)-এর বর্ণনায় আছে, রাসুল (সা.) বলেন, হে জাবের, আমার কী হলো, আমি তোমাকে ভগ্নহৃদয় দেখছি কেন? জাবের (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা শহীদ হয়েছেন এবং তিনি অনেক সন্তান ও ঋণের বোঝা রেখে গেছেন। তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না যে, আল্লাহ তাআলা তোমার পিতার সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বলেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা কখনো অন্তরাল ছাড়া কারো সঙ্গে কথা বলেননি। কিন্তু তোমার পিতার সঙ্গে অন্তরাল ছাড়াই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে আমার বান্দা! আমার কাছে চাও, আমি তোমাকে দেব। তোমার পিতা বলল, হে আল্লাহ! আমাকে জীবন দান করুন, যাতে আমি আপনার পথে পুনরায় শহীদ হতে পারি। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আগেই লিপিবদ্ধ করে দিয়েছি যে মানুষ (মৃত্যুর পর) আর (পৃথিবীতে) ফিরে যাবে না।’ তোমার পিতা বলল, হে আল্লাহ! তাহলে আমার উত্তরসূরিদের (আমার সৌভাগ্যের) এ খবর পৌঁছে দিন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৯০)। অতঃপর রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাজিল করেন, ‘যাঁরা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন, তোমরা তাঁদের কখনো মৃত মনে কোরো না; বরং তাঁরা জীবিত এবং তাঁদের রবের কাছে জীবিকাপ্রাপ্ত।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৯)

এ কথা স্বীকৃত, কোনো পর্দা ছাড়া আবদুল্লাহ ইবনে হারাম (রা.)-এর সঙ্গে আল্লাহর কথোপকথন দুনিয়াতে জীবিতকালে হয়নি। বরং তা মৃত্যু-পরবর্তী (আলমে বরজখ) কবরের জীবনে হয়েছে। আলমে বরজখের ব্যাপারে কোরআন-সুন্নাহর দলিল ছাড়া কোনো কথা বলা যাবে না।

দীর্ঘকাল পরও অক্ষত মৃতদেহ : ইমাম জাহাবি (রহ.) ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে এবং ইবনে সাদ (রহ.) ‘আত তাবকাত’ গ্রন্থে জাবের (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে হারাম আনসারি (রা.)-এর সঙ্গে কবর দেওয়া হয় আমর ইবনুল জামুহ (রা.)-কে। কবর দেওয়ার ৪৬ বছর পর তাঁদের কবরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। লাশ সরানোর জন্য কবর খোঁড়া হলে তাঁদের একদম অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English