রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে ফের সক্রিয় গতবারের পেঁয়াজ সিন্ডিকেট!

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অনন্ত ২৫-৩৫ টাকা বেড়েছে। কিছুদিন পরপর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পেঁয়াজের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে পেঁয়াজ কেনাকে দায়ী করছেন। তবে গত বছর পেঁয়াজের দাম বাড়ার নেপথ্যে যে সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেছিল, তাদের শাস্তি না দেয়ার কারণে এবারো পেঁয়াজের দাম নিয়ে নয়ছয় করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। সেই সিন্ডিকেটই কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত আগামী রবিবার থেকে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হবে জানিয়েছেন টিসিবি চট্টগ্রামের পরিচালক জামাল আহমদ। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির পাশাপাশি পেঁয়াজের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পেঁয়াজের অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তাব দেয়া হয় বৈঠকে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ৫২-৭০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ ৫২-৫৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। চকবাজার এলাকার খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতারা বললেন, ‘আমরা খুচরা ব্যবসায়ী। যে দামে কিনি, তার থেকে দুয়েক টাকা লাভে বিক্রি করি। আমরা বাজারের কোনো জিনিসের দাম বাড়াতে পারি না। এসব ইমপোর্টার ও আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণে। ওরা বাড়ালে বাড়ে, কমালে কমে। তিনি বলেন, এমনিতে পাইকারদের কাছে শুনেছি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। তাই এর প্রভাবে এখানেও দাম বেড়েছে।

মোমিনুল হক নামে এক ক্রেতা বলেন, গত বছর পেঁয়াজ নিয়ে যে সিন্ডিকেট চক্র মানুষকে জিম্মি করে অর্থলুট করেছিল, প্রশাসন তাদের চিহ্নিত করেছিল বলে জেনেছি। কিন্তু তাদের কোনো শাস্তি দেয়া হয়নি। মাঝে মাঝে ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে জরিমানা করলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ২০১৯ সালেও অসাধু ব্যবসায়ীরা একই কায়দায় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। সেই অসাধু সিন্ডিকেট আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেই এসব ‘পেপারলেস ব্যবসায়ীরা’ বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘট দিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দেন-দরবারে চলে যান। প্রশাসনও বড় বড় ব্যবসায়ীদের চাপে এসব অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাই এ অবস্থায় জরুরিভাবে আমদানিকারকের এজেন্ট পরিচয়ে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ, পেঁয়াজসহ নিত্যভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, বাজার তদারকি জোরদার, ভোগ্যপণ্য আমদানি নিশ্চিত করা, বিকল্প বাজার হিসেবে টিসিবির মাধ্যমে ভোগ্যপণ্য বিক্রি জোরদার করতে হবে। তবে খাতুনগঞ্জের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের মার্কেট হামিদ উল্যাহ খান মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে এখানে দাম কমে যাবে। এখন সরবরাহ কম থাকায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরবরাহ ও মজুত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে মজুত ঠিকঠাক আছে।

সরবরাহও হচ্ছে। তবে ভারতের যে রাজ্যে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, সেখানে বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম হওয়ায় সার্বিকভাবে সরবরাহ কমেছে। ফলে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ ঠিকঠাক হলে আবার পেঁয়াজের দাম কমে আসবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English