শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন

তহবিল ঘাটতিতে বাড়ছে সংকট

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৯ জন নিউজটি পড়েছেন

অবসর সুবিধা পেতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে। ২০১৮ সালে অবসরে গিয়ে এখনও টাকা তুলতে পারেননি এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২২ হাজার। শেষ জীবনে টাকা না পাওয়ায় গরিব অনেক শিক্ষক অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ টাকা না পেয়ে মারা গেছেন। আবার অসুস্থ কেউ চিকিৎসা করাতে পারছেন না। কন্যাকে বিয়ে দিতে পারছেন না এমন শিক্ষক-কর্মচারীও আছেন।

ব্যানবেইসে অবস্থিত অবসর বোর্ডের দফতরের সামনে ১৪ সেপ্টেম্বর কথা হয় পটুয়াখালীর বাউফলের নান্টুর সঙ্গে। তিনি জানান, তার বাবা দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় পূর্ব খাজুরবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে অবসরে যান ২০১৭ সালের মার্চে। এরপর ৩ আগস্ট অবসর সুবিধার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু ওই অর্থ এখন পর্যন্ত পাননি। দু’বছর আগে তার বাবা মারা গেছেন।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সিরাজ সিকদার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুল হক জানান, ২০১৮ সালের ৪ জুলাই তিনি অবসরে যান। এরপর থেকে তিনি ধরনা ধরছেন, কিন্তু অবসর সুবিধার টাকা পাননি আজও। এ রকম আরও বেশকিছু শিক্ষক ও কর্মচারী এবং তাদের আত্মীয়স্বজন জানান কষ্টের কথা।

বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী বলেন, এটা ঠিক যে ২২ হাজার ৪৩৩ শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন জমা আছে। করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই প্রতিদিনই কেউ না কেউ প্রাপ্য অর্থের তথ্য জানতে এই ভবনে আসছেন। কিন্তু তহবিল সংকটের কারণে চাহিদামতো সুবিধা দিতে পারছি না।

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষকের সংখ্যা আড়াই বছরে প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার কমেছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, আবেদনকারীর সংখ্যাটা ছিল প্রায় ৪৬ হাজার। শিক্ষকদের দুঃখ-কষ্টের কথা অবগত হয়ে পরপর তিন অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোর্ডকে এক হাজার ৩১৭ কোটি টাকা প্রদান করেছেন। এ কারণেই অল্পসময়ে ভুক্তভোগীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর আগে কোনো সরকার বেসরকারি শিক্ষকদের কথা এভাবে ভাবেনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ২২ হাজার ৪৩৩ শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন জমা আছে। এসব আবেদনের বিপরীতে প্রাপ্য পরিশোধে প্রয়োজন দুই হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রতিমাসে গড়ে ৮৩৩টি আবেদন এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রতি মাসে দরকার ১০৫ কোটি টাকা। বোর্ডের আয়ের মধ্যে আছে ৪ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও থেকে কেটে রাখা ৬ শতাংশ হারে মাসিক চাঁদা এবং স্থায়ী আমানতের সুদ। প্রতি মাসে চাঁদা বাবদ জমা হয় ৬০ কোটি। আর স্থায়ী আমানত থেকে মাসে আসে ৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে প্রতিমাসে ঘাটতি থাকছে ৩৯ কোটি টাকা। ফলে বাধ্য হয়ে মাসে ৬৬ কোটি টাকার মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এতে দিন দিন সংকট বাড়ছে।

অবসর বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন নিষ্পত্তির করা হয়েছে। বর্তমানে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনের অবসর সুবিধার টাকা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আবেদনের নিরীক্ষা শেষ হয়েছে। এরপর বোর্ডসভায় অনুমোদন নিয়ে চেক পাঠানো হবে। নভেম্বরের মধ্যে আবেদনকারীরা অর্থ পেয়ে যাবেন।

২০০২ সালে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা দেয়া শুরু হয়। আইন অনুযায়ী শিক্ষকরা প্রতিমাসে এমপিও বা বেতন থেকে চাঁদা দেবেন। শুরুতে এটা ৪ শতাংশ ছিল। পরে এটা ৬ শতাংশ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিবছর এই খাতে সরকারি অনুদানও আসার কথা ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই এই অবসর সুবিধা বোর্ড চরম অবহেলিত। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই বোর্ডের এফডিআর ছিল মাত্র ৮৯ কোটি টাকা। এটা থেকে নামমাত্র আয় ছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সদস্য সচিব হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করে গেছেন তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল। ফলে চাঁদার টাকায় কেবল আবেদনকারীদের বিদায় করা হতো। আয়ের তুলনায় দাবি বেশি থাকায় সৃষ্টি হয় মহাসংকট।

এ বিষয়টি জানতে পেরে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী ৬৫০ কোটি টাকার অনুদান দেন। এর মধ্যে ৫০০ কোটিই দেন স্থায়ী তহবিল হিসেবে। পাশাপাশি ২০১৭ সালে ১০০ কোটি ও ২০১৮ সালে ৫৩২ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেন প্রধানমন্ত্রী। থোক বরাদ্দের টাকায় শিক্ষকদের সুবিধা দেয়া হয়। যে কারণে আবেদনকারী অর্ধেকে নেমে আসে। আর স্থায়ী তহবিল এফডিআর করা হয়। বর্তমানে ৬১০ কোটি টাকার এফডিআর করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আরও ৩৫ কোটি টাকা স্থায়ী তহবিল হিসেবে দেয়া হয়। এ অর্থও শিগগির এফডিআর করা হবে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী বলেন, এই জট দূর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মুজিববর্ষে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ১২ হাজার শিক্ষককে আমরা অবসরের অর্থ পরিশোধ করতে চাই। এজন্য সম্পূরক বাজেট থেকে এক হাজার কোটি টাকা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English