সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

ঝুঁকিতে রয়েছেন দুই প্রার্থীই

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৩ জন নিউজটি পড়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন—উভয়ই পরীক্ষার আগের রাতের মতো পড়া মুখস্থ করায় ব্যস্ত। এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীর মধ্যকার নির্ধারিত তিনটি বিতর্কের প্রথমটিতে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁরা মুখোমুখি হবেন ক্লিভল্যান্ডে। উভয়ের সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর জানা। কার কী দুর্বলতা, তা বুঝতে রয়েছে ভিডিও। এমনকি নকল প্রতিদ্বন্দ্বী ও নকল প্রশ্নকর্তাও রয়েছে। ঝানু বিতর্কবিশারদদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ তো থাকবেই।

আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্প ও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বাইডেন—উভয়ের শিবির থেকেই ২৯ সেপ্টেম্বরের বিতর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। জনমতে পিছিয়ে থাকা ট্রাম্প আশা করছেন, তিনি ‘টেকনিক্যাল নকআউটে’ কুপোকাত করবেন বাইডেনকে। অন্যদিকে বাইডেন অপেক্ষায় আছেন, কখন ট্রাম্পের বলা মিথ্যা হাতেনাতে ধরিয়ে ট্রফি ছিনিয়ে নেবেন। বিতর্কের জন্য গঠিত নিরপেক্ষ কমিশন ইতিমধ্যে জানিয়েছে, ৯০ মিনিটে মোট ছয়টি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে, প্রতি প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ ১৫ মিনিট। বিষয়গুলো হলো সাফল্য–ব্যর্থতার খতিয়ান, সুপ্রিম কোর্ট, করোনাভাইরাসের মহামারি, অর্থনীতি, বর্ণবৈষম্য ও সহিংসতা এবং নির্বাচনের বিশুদ্ধতা।

বিতর্কের ঠিক এক দিন আগে ‘বিশাল বোমা’ ফাটিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ট্রাম্পের কর ফাঁকির চিত্র। বিতর্কের তালিকায় এ বিষয় না থাকলেও বাইডেন যে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, তাতে সন্দেহ নেই
এই বিতর্কের ঠিক এক দিন আগে ‘বিশাল বোমা’ ফাটিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ট্রাম্পের কর ফাঁকির চিত্র। বিতর্কের তালিকায় এ বিষয় না থাকলেও বাইডেন যে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, তাতে সন্দেহ নেই। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবমতো এই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নিজের আয়করের হিসাব অবমুক্ত করতেও রাজি হননি তিনি। তাঁর যুক্তি, আয়কর বিভাগ এখনো তার হিসাব নিরীক্ষা করে চলেছে। তাই এই হিসাব প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ২০১৬ সালে থেকে ট্রাম্প এই একই গান গেয়ে চলেছেন। যদিও সবাই একমত যে আয়করের হিসাব প্রকাশে কোনো আইনগত সমস্যা নেই। অন্যদিকে বাইডেন তাঁর গত ২১ বছরের আয়করের হিসাব প্রকাশ করেছেন।

স্বাভাবিকভাবেই আয়কর প্রশ্নে ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হয়েছে বাইডেন শিবির। তারা ইতিমধ্যে ‘আমি ট্রাম্পের চেয়ে বেশি আয়কর দিই’ স্লোগান লিখে পোস্টার ও গাড়ির স্টিকার ছেপেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিতর্কে বাইডেন আয়কর প্রশ্নে ট্রাম্পকে তুলাধোনা করে ছাড়বেন।

২৯ সেপ্টেম্বরের বিতর্কে ভালো করা বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্পের জন্য বেশি জরুরি। জনমতে তিনি পিছিয়ে। তাঁর সময়ে করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। অর্থনীতি এখনো গভীর সংকটে। বর্ণবৈষম্য নিয়ে সৃষ্ট সমস্যায় সারা দেশে অসন্তোষ অব্যাহত। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা আগামী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সাফল্য-ব্যর্থতার একটি গণভোট বিবেচনা করছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রুথ বেইডার গিন্সবার্গের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া পদে একজন রক্ষণশীল বিচারপতির মনোনয়ন প্রস্তাব করে তিনি আলোচনার মোড় ঘোরাতে চাইছেন। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদনটি আবারও তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

ট্রাম্প শিবিরের প্রত্যাশা, তিনি সরাসরি বাইডেনকে ধরাশায়ী করে শিরদাঁড়া খাড়া করে দাঁড়াবেন। কিন্তু একের পর ‘কেলেঙ্কারি’ তাঁর পেছনে যেভাবে জোঁকের মতো লেগে আছে, তাতে তেমন ভরসার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া বাক্পটু হিসেবে খ্যাতি থাকলেও অধিকাংশ জটিল প্রশ্নে ট্রাম্পের জ্ঞান ভাসা–ভাসা
ট্রাম্প শিবিরের প্রত্যাশা, তিনি সরাসরি বাইডেনকে ধরাশায়ী করে শিরদাঁড়া খাড়া করে দাঁড়াবেন। কিন্তু একের পর ‘কেলেঙ্কারি’ তাঁর পেছনে যেভাবে জোঁকের মতো লেগে আছে, তাতে তেমন ভরসার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া বাক্পটু হিসেবে খ্যাতি থাকলেও অধিকাংশ জটিল প্রশ্নে ট্রাম্পের জ্ঞান ভাসা–ভাসা। আগপাছ বিবেচনা না করে তিনি মিথ্যা বলেন, অথবা সত্যকে নিজের ইচ্ছামতো ঘুরিয়ে ফেলেন। প্রতিপক্ষকে ছোট করা তাঁর নৈমিত্তিক স্বভাব। এসব কারণে ট্রাম্পের হড়কে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

কথা আটকে যাওয়া এবং কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কালক্ষেপণের জন্য বাইডেন সুপরিচিত। অল্পতে রেগে যাওয়ার ঘটনাও তাঁর ক্ষেত্রে ঘটেছে। এসব কারণে বিতর্কে বাইডেনের কাছ থেকে তাঁর সমর্থকেরা খুব নাটকীয় সাফল্য আশা করছে না
অন্যদিকে জনমতে এগিয়ে থেকেও ঝুঁকির মুখে রয়েছেন ৭৭ বছর বয়স্ক বাইডেনও। প্রার্থী বা তার্কিক—কোনো দিক থেকেই তিনি সবার অনুমোদন পেতে সক্ষম হচ্ছেন না। ট্রাম্প ও তাঁর নির্বাচনী শিবির থেকে অনবরত অভিযোগ করা হচ্ছে, বাইডেন অতিবৃদ্ধ, তাঁর স্মৃতিবিভ্রাট ঘটেছে, প্রেসিডেন্টের গুরুদায়িত্ব পালনে যে জীবনীশক্তি চাই, তা তাঁর নেই। এমনকি কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প এমন দাবিও করেছেন যে বাইডেন শক্তিবর্ধক মাদক গ্রহণ করছেন। বিতর্কের আগে বা পরে বাইডেনের মাদক পরীক্ষা করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কথা আটকে যাওয়া এবং কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কালক্ষেপণের জন্য বাইডেন সুপরিচিত। অল্পতে রেগে যাওয়ার ঘটনাও তাঁর ক্ষেত্রে ঘটেছে। এসব কারণে বিতর্কে বাইডেনের কাছ থেকে তাঁর সমর্থকেরা খুব নাটকীয় সাফল্য আশা করছে না। এটি অবশ্য বাইডেনের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে। একজন ভাষ্যকার মন্তব্য করেছেন, বাইডেনকে উপহাস করে পরীক্ষা পাসের খুঁটিটি ট্রাম্প এতটা নামিয়ে এনেছেন যে তা এখন কার্যত মাটি ছুঁই ছুঁই করছে। বাইডেন তা ডিঙিয়ে যেতে পারলেই নিজেকে বিজয়ী বলে দাবি করতে পারবেন।

করোনা মহামারির কারণে ট্রাম্প বা বাইডেন—কেউই বড় কোনো নির্বাচনী সভা করতে পারেননি। এক অর্থে এই বিতর্কই হবে তাঁদের জন্য সর্ববৃহৎ নির্বাচনী র্যালি। ২০১৬ সালে ট্রাম্প-হিলারি প্রথম বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে আট কোটির বেশি মানুষ দেখেছিল। ২৯ সেপ্টেম্বরের বিতর্ক সম্ভবত সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে।

৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বাইডেন নয়, ট্রাম্পই প্রথম বিতর্কে বিজয়ী হবেন। অন্যদিকে ৪১ শতাংশের বিশ্বাস, বাইডেন বিজয়ী হবেন। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, খুব বড় ধরনের ভুল না করলে ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়েই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করতে পারবেন
এক জনমত জরিপে বলা হয়েছে, ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বাইডেন নয়, ট্রাম্পই প্রথম বিতর্কে বিজয়ী হবেন। অন্যদিকে ৪১ শতাংশের বিশ্বাস, বাইডেন বিজয়ী হবেন। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, খুব বড় ধরনের ভুল না করলে ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়েই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করতে পারবেন। অবশ্য হারজিত যা–ই হোক, ট্রাম্প যে নিজেকে বিজয়ী দাবি করবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

তবে এই বিতর্কের ফলে জনমতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা–ও মনে হয় না। কাকে ভোট দেব—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ ভোটার ইতিমধ্যে মনস্থির করে ফেলেছেন। একজন নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘বিতর্কে ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়ের একটাই লক্ষ্য, বড় ধরনের কোনো ভুল না করা।’

সাম্প্রতিক ইতিহাসে অবশ্য তেমন ভুলের উদাহরণ কম নয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা নির্বাচনী বিতর্কে প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়ে এতটা অপ্রস্তুত ও অমনোযোগী ছিলেন যে তাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরের দুই বিতর্কে তাঁরা সবাই সে ভুল শুধরে নিয়েছিলেন। ট্রাম্প ও বাইডেনও সেই সুযোগ পাবেন। তবে উত্তেজনার পারদ এখন এতটাই চড়া যে প্রতিপক্ষের বাক্যবাণে ধরাশায়ী হলে ফের উঠে দাঁড়ানো খুব সহজ হবে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English