করোনা মহামারি-পরবর্তী অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি বৈশ্বিক রূপরেখা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহামারি-পরবর্তী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন নিয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন তিনি। খবর বাসস
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এখন প্রয়োজন একটি সুসমন্বিত রোডম্যাপ। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা, প্যারিস চুক্তি ও আদ্দিস আবাবা এজেন্ডার ওপর ভিত্তি করে এই রূপরেখা প্রণয়ন করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এক্ষেত্রে জাতিসংঘকে অনুঘটকের ভূমিকায়ও দেখতে চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। করোনা মহামারিতে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিই এখন বিপর্যস্ত। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে একের পর এক দুঃসংবাদ আসছে।
বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা অর্থনীতিতে মহামারির ক্ষত মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, করোনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভীষণরকম প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ১৩.২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করি, যা আমাদের জিডিপির ৪.০৩ শতাংশের সমান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই মহামারির সময় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ ৩০ মিলিয়নের বেশি মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
এ সভায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ছাড়াও বক্তব্য দেন- কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস।
বৈশ্বিক এই সংকট উত্তরণে ছয়টি সুপারিশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমত, তিনি শিল্পোন্নত দেশগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা, অর্থ ছাড় এবং ত্রাণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। উন্নত দেশগুলোকে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরও বেশি বিনিয়োগের ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে দেশগুলোকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তার পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর রেমিট্যান্স প্রবাহ গতিশীল রাখার কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উন্নত দেশের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের তাগিদ দেন।
শেখ হাসিনাসহ ৬৪ বিশ্বনেতার প্রকৃতি রক্ষার অঙ্গীকার: এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৪ জন বিশ্বনেতা প্রকৃতি, জলবায়ু ও মানুষকে রক্ষা করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। এ লক্ষ্যে গতকাল সোমবার তারা যৌথভাবে ‘লিডার্স প্লেস ফর ন্যাচার : ইউনাইটেড টু রিভার্স বায়োডাইভার্সিটি লস বাই ২০৩০ ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক অভিযান সূচনা করেছেন।
প্রকৃতি, জলবায়ু ও মানুষকে রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া ও অন্যদের উৎসাহিত করতে ৬৪ জন বিশ্বনেতা সম্মিলিতভাবে এই সংকেত পাঠিয়েছেন। এই উদ্যোগে স্বাক্ষর করেছেন অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, জাস্টিন ট্রুডো ও বরিস জনসনের মতো বিশ্বনেতা।
যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বনেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দেশ, জনগণ ও প্রজন্মের মধ্যে ঐক্য, সংহতি ও আস্থার ভিত্তিতে বহুপাক্ষিকতার প্রতি আমরা দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক পরিবেশ সংকট মোকাবিলার এটিই একমাত্র উপায়।
এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে আছে- ভুটান, কানাডা, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েল, ইতালি, মেপিকো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন।