প্রতিদ্বন্দ্বী ততটা শক্তিশালী ছিলেন না। তার পরও শঙ্কা ছিল। ভোটের লড়াইয়ে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। এক যুগ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি থাকা কাজী সালাউদ্দিনের জন্য এবারের নির্বাচনটা চ্যালেঞ্জই ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ উতরিয়ে আবারও বাফুফের মসনদে কিংবদন্তি এ ফুটবলার। টানা চতুর্থবারের মতো ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি নির্বাচিত হলেন সালাউদ্দিন।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বাফুফে নির্বাচনে সালাউদ্দিনকেই বেছে নিলেন কাউন্সিলররা। ১৩৯ ডেলিগেটের মধ্যে ১৩৫ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়া সালাউদ্দিন ভোট পেয়েছেন ৯৪টি। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো আবার ভোটের আগের দিন নিজেকে সমন্বয় পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করা বাদল রায় পেয়েছেন ৪০ ভোট। পরিবর্তনের ডাক দিয়ে নির্বাচনে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ফুটবলার শফিকুল ইসলাম মানিক পেয়েছেন মাত্র এক ভোট।
কাজী সালাউদ্দিনের মতো টানা চতুর্থবারের মতো সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি। সম্মিলিত পরিষদের এই জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি প্রার্থী ৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সমন্বয় পরিষদের শেখ মোহাম্মদ আসলাম পেয়েছেন ৪৪ ভোট। সহসভাপতি পদেও আধিপত্য সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে সম্মিলিত পরিষদের। মোট চার পদের মধ্যে তিনটি পদে সম্মিলিত পরিষদ জিতেছে। বাকি একটি পদে দু’জন সমান ভোট পেয়েছেন। সহসভাপতি পদে প্রথম হওয়া ইমরুল হাসান পেয়েছেন ৮৯ ভোট। দ্বিতীয় কাজী নাবিল ৮১, তৃতীয় আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক পেয়েছেন ৭৫ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও সমন্বয় পরিষদের মহিউদ্দিন আহমেদ মহি পেয়েছেন সমান ৬৫ করে ভোট। টাই হওয়া এই দু’জনকে আবারও ভোট দেবেন ১৩৯ কাউন্সিলর। ৩১ অক্টোবর বাফুফে ভবনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে কাউন্সিলররা বেছে নেবেন একজনকে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এবারের নির্বাচন নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। সভাপতি প্রার্থী সালাউদ্দিনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কোনো এক অজানা কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। মনোনয়ন ফরম দাখিল করেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো বাদল রায় ভোটের লড়াইয়ে থেকে যান বিলম্বিত সময়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করায়। বাস্তবে নির্বাচনের লড়াইয়ে সালাউদ্দিনের প্রতিপক্ষ ছিলেন মানিক। কিন্তু গোপনে ভোটের প্রচার চালানো বাদল রায়ই টানা চতুর্থবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হতে সালাউদ্দিনের বড় বাধা ছিলেন। ভোটের পর নানান গুঞ্জনও রটেছিল যে, বাদল রায়ই হচ্ছেন সভাপতি। এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন সালাউদ্দিনের সমর্থকরা। কিন্তু সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে খবর আসে, আবারও সভাপতি সালাউদ্দিন।
বাফুফের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল নির্বাচনী ভেন্যু। সম্মিলিত ও সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীদের সমর্থকদের উপস্থিতিও ছিল। সাবেক ও বতর্মান সংগঠকদের মিলন মেলায় ফুটবলের সোনালি দিনটিই যেন ফিরে এলো এদিন। মুখে কাউকে সমর্থন দেওয়ার কথা না বললেও ব্যালটে ঠিকই পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে টিক দিয়েছেন। ভোট গণনার পরই বোঝা গেল, বর্তমান সভাপতি সালাউদ্দিনের ওপরই আস্থা রেখেছেন ডেলিগেটরা। আবারও নির্বাচিত হওয়া সালাউদ্দিনের সামনে এখন অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ।