ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাশবনে ঘুরতে গিয়ে স্থানীয় তরুণীর শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার ঘটনায় প্রধান হোতা রাহিম মিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে রাহিম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট–১ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
রাহিমের বাড়ি জেলা শহরের ছয়বাড়িয়া এলাকায়। রাহিমের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরিচয়ে লেখা, তিনি ‘লক্ষ্য মোদের মানবসেবা’ ফেসবুক পেজের সাবেক অ্যাডমিন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালত পরিদর্শক দিদারুল আলম আজ বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট–১ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম রাহিমকে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে জেলা শহরের দক্ষিণ পৈরতলা এলাকা থেকে জুনায়েদ হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর (গত সোমবার) দুপুরে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
শ্লীলতাহানির শিকার তরুণী (১৮) এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের পুনিয়াউটের কাশবনে গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির শীতের কোনো এক সন্ধ্যার ঘটনা এটি। ঘটনাটি সবার সামনে আসে ২৩ সেপ্টেম্বর। ওই দিন দুপুরে ওই ঘটনার ১ মিনিট ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ওই তরুণীর চেহারা ঝাপসা করে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এরপর কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী বিষয়টি সদর থানা-পুলিশের নজরে আনেন। পরে পুলিশ ঘটনার হোতাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। গ্রেপ্তার জুনায়েদ ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন রাহিম (২৩), শাকিল (২৩), মাইনুদ্দিন (২৩) ও রুবেল (২৪)। তাঁরা সবাই পরস্পর বন্ধু।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুনিয়াউট এলাকার কাশবনে ঘুরতে যাওয়া কালো বোরকা পরা তরুণীকে উত্ত্যক্ত করছেন তিনজন যুবক। তাঁরা তরুণীর হাত থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে যান। পরে ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে যান তাঁদের মধ্যে একজন (রাহিম)। ওই তরুণী ওই যুবকের পায়ে ধরে ‘বড় ভাই’ সম্বোধন করে চলে যেতে আকুতি জানান। কিন্তু ওই যুবক তরুণীর শরীরে হাত দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে রাখেন এবং একপর্যায়ে মাথা থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলেন। বারবার বাধা দিলেও তিনি শোনেননি। এ সময় ভিডিওতে আরেক যুবককে (জুনায়েদ) দেখা যায় এবং ভিডিও ধারণকারী যুবককে (শাকিল) তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়
পুলিশ ঘটনা জানার পরপরই শ্লীলতাহানিকারী, ভিডিও ধারণকারী এবং ফেসবুকে ভিডিও ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত পাঁচ যুবককে শনাক্ত করে। তাঁরা পাঁচজনই পরস্পরের বন্ধু। ঘটনার মূল হোতা যিনি তরুণীর গায়ে হাত দেন এবং শ্লীলতাহানি করেন, ওই যুবকের নাম রাহিম। গ্রেপ্তার জুনায়েদ এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন শাকিল নামে তাঁদের আরেক বন্ধু। এই ভিডিও পরে তাঁদের সব বন্ধুর মুঠোফোনে আদান-প্রদান হয়। মাইনুদ্দিন নামে তাঁদের এক বন্ধুর মুঠোফোন থেকে রুবেল নামের এক বন্ধু ভিডিওটি নিয়ে প্রথম ফেসবুকে পোস্ট করেন। শ্লীলতাহানির ঘটনায় সরাসরি জড়িত কোনো এক বন্ধুর সঙ্গে চলতি মাসে বিরোধের জের ধরে তিনি ভিডিওটি প্রকাশ করেন। সেখান থেকে এক ব্যক্তি এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার আশায় ‘আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ পেজের ইনবক্সে ভিডিওটি দেন এবং সেখান থেকে ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসে।