শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

পৃথিবীর আজব ক’টি ডাকঘর

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

বিশ্ব ডাক দিবস আজ। চিঠি লিখে প্রিয় মানুষের খবর নেওয়ার পাঠ এখন উঠেই গিয়েছে। হাতের মুঠোয় স্মার্টফোন ও তার হরেক ব্যবহার আমাদের বেঁচে থাকাকে করে দিয়েছে অনেক সহজ। তবু আমাদের জীবনে ডাক ব্যবস্থার যে ভূমিকা, তার প্রতি সচেতনতা বাড়াতেই এই দিন বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালিত হয়। বিশ্ব ডাক দিবসে জেনে নেওয়া যাক পৃথিবীর কয়েকটি আজব ডাকঘরের কথা।

ভাসমান ডাকঘর
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ডাকঘর রয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতে রয়েছে একটি ভাসমান ডাকঘরও। কাশ্মীরের শ্রীনগরে ডাল লেকের ওপরে এই ভাসমান ডাকঘরটি রয়েছে। ২০১১ সালের আগে এই হাউসবোটের ডাকঘরটি পরিচিত ছিল ‘নেহরু পাক পোস্ট অফিস’ নামে। পরে এর নাম বদলে হয় ‘ফ্লোটিং পোস্ট অফিস, ডাল লেক’। এই ডাকঘরে দুটি ঘর আছে। একটি ঘরে ডাকঘরের কাজকর্ম হয় এবং অন্য ঘরটি একটি ছোট মিউজিয়াম, জম্মু-কাশ্মীরের ডাক বিভাগে কিছু উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নথির প্রদর্শন করা হয়েছে। এই ডাকঘরের নিজস্ব স্ট্যাম্প ডিজাইন আছে, যেখানে একজন মাঝির শিকারা চালানোর ছবি রয়েছে।

এভারেস্টে ডাকঘর
ভারতের পর এবার প্রতিবেশী দেশ নেপাল। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে রয়েছে একটি পোস্ট অফিস। সমুদ্রতল থেকে ৫৩০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই ডাকঘরই সম্ভবত বিশ্বের উচ্চতম পোস্ট অফিস। এখান থেকে চিঠি পোস্ট করতে হলে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসতে হতে পারে পর্যটকদের। এভারেস্টের বেস ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছে কেমন লাগছে, সেকথাই আত্মীয়স্বজনকে চিঠি লিখে যাতে জানাতে পারেন, সেই জন্যই স্থাপিত হয়েছিল এই ডাকঘর। তবে আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে অগাস্ট পর্যন্তই খোলা থাকে এই পোস্ট অফিস।

জলের নীচে ডাক
মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূল সাবাহতে রয়েছে জলের নীচে পোস্ট বক্স। সেখানে জলের নীচে একটি ডুবে যাওয়া পুরনো মালবাহী জাহাজের গায়ে একটি পোস্ট বক্স লাগানো আছে। ডাইভাররা ওয়াটারপ্র‌ুফ পোস্টাল ব্যাগে ভরে এখানে পোস্টকার্ড ড্রপ করে যেতে পারেন। সপ্তাহে দু-বার ডাক-ডুবুরি এসে পোস্টবক্স থেকে যাবতীয় পোস্ট কার্ড নিয়ে যান।

গুহার ভেতরে পোস্টবক্স
মালয়েশিরা সারাওয়াকে আছে গুহার ভেতরে পোস্টবক্স। গুনুং মুলু ন্যাশনাল পার্কে ডিয়ার কেভের ভেতর এই পোস্ট বক্সটি রয়েছে। এই ডিয়ার কেভ ইউনেস্কোর কাছ থেকে বিশ্ব হেরিটেজের তকমা পেয়েছে।

পেঙ্গুইনদের পোস্টবক্স
এবার কথা বলব বিশ্বের দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত পোস্টবক্সটি নিয়ে। এটি অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার লকরয় বন্দরে। এই মহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এই লকরয় বন্দর। গরমকালে এখানে পেঙ্গুইনদের জীবন দেখতে দিনে দু-জাহাজ ভর্তি পর্যটক আসেন। আর্জেন্টিনা এবং চিলির থেকে ১১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত পোর্ট লকরয়।

ডাকে পাঠান নারকেল
আমেরিকার হাওয়াইতে মোলোকাই দ্বীপের হুলেহুয়া শহরে এমন একটি ডাকঘর রয়েছে, যেখান থেকে চিঠির বদলে নারকেল পোস্ট করা যায়। এখান থেকে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে হাওয়াইয়া নারকেল পাঠাতে পারেন আপনি। ১৯৯১ সালে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য এই প্রথা শুরু করা হয়। এখানকার ডাক বিভাদের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ৩০০০ নারকেল এখান থেকে পোস্ট করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডাকঘর
পোল্যান্ডের একটি পোস্ট অফিসে মনে করানো হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার ইতিহাস। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানকার ডাকঘরের কর্মীরা তাঁদের দেশের নাত্‍‌‌সি হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের স্মরণ করেই এই ডাকঘরটির বাইরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এই ডাকঘরটি এখনও চালু আছে এবং এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্থানীয় পোস্টার ইতিহাসের কিছু প্রদর্শনী রয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English