করোনা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে পরীক্ষা না হলেও শিক্ষার্থীদের গ্রেড দেয়া হবে।
তাদের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত গ্রেড গড় করে এ ফল তৈরি করা হবে। গত বছর বিভিন্ন বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেয়া হবে।
ফলে এই প্রথম শতভাগ পরীক্ষার্থীই পাস করবে। এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বস্তুত এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বাস্তব পরিস্থিতির আলোকেই।
সরকারের সামনে এর কোনো বিকল্প ছিল না। সারা বিশ্বেই করোনা মহামারীর প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় সব দেশ বিকল্প উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এখনও।
কোনো কোনো দেশ সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের দেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া এবং স্বাভাবিক উপায়ে পরীক্ষা গ্রহণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল সাড়ে ১৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর। তাদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে না সরকার। তাছাড়া পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও এ ঝুঁকিতে পড়তে পারতেন। তাই বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলেই মনে করি আমরা।
বিশ্বে বিশেষ পরিস্থিতিতে শিক্ষাক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের নজির রয়েছে। আমাদের দেশেও নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে কম নম্বরে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুটি ব্যাচের এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। অবশ্য উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নেয়া হয়েছিল একসঙ্গে। এবারও বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তটি এসেছে। তবে এটা ঠিক, অধিকতর মেধাবী শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে যাদের প্রস্তুতি ছিল ভালো, তারা মনে করছে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তাদের যথাযথ মূল্যায়নের সুযোগ থাকল না।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না হওয়ায় আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকে কেন্দ্র করে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব শিক্ষার্থী পাস করায় ভর্তিচ্ছুর সংখ্যা বেড়ে যাবে অনেক। এসব সমস্যা নিরসনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের এখন থেকেই ভাবতে হবে। যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল, শিক্ষার গুণগত মান যেন পড়ে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখা।
এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারেরও। পরীক্ষা বাতিল ঘোষিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই পড়াশোনায় শৈথিল্য না দেখায়, সেদিকে বিশেষ করে অভিভাবকদের নজরদারি থাকতে হবে।
বরং বিদ্যমান বাস্তবতায় পড়াশোনা অব্যাহত রাখা শুধু নয়, তা আরও বাড়িয়ে দেয়া উচিত বলে মনে করি আমরা। কারণ ভবিষ্যতে তাদের চাকরিক্ষেত্রে আরও বেশি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। সর্বোপরি পরীক্ষা না হওয়ার ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, তার একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাইকে।