রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠছে চিংড়িশিল্প

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৩ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি শিল্পে। এতে করে বাংলাদেশের ‘সাদা সোনা’খ্যাত চিংড়ি রপ্তানি শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ থেকে হিমায়িত চিংড়ির ২৯০টি ক্রয় আদেশ বাতিল করেছে বিদেশি ক্রেতারা। এতে দেশের চিংড়ি রপ্তানিকারকরা ৪৬০ কোটি টাকার (পাঁচ কোটি ৯৭ লাখ ডলার) ক্ষতিতে পড়েছেন। এই ক্ষতি থেকে উত্তরণে সরকার প্রণোদনার ঘোষণা দিলেও এখনো বেশির ভাগ রপ্তানিকারক সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

রপ্তানিকারকরা জানান, গত মার্চ থেকে বিদেশি ক্রেতাদের চিংড়ি আমদানিতে অনীহার কারণে বাংলাদেশে রপ্তানিকারকদের হিমাগারে চিংড়ি মজুদ বেড়েছে। প্রক্রিয়াজাত করা চিংড়ি বিক্রি করতে না পারায় তারল্য সংকটে রয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারি শুরুর আগের তুলনায় করোনাকালীন আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির দাম এক থেকে দেড় ডলার কমেছে। এর পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে রপ্তানিকারকরা চিংড়ি রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।’

জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন মাসে দেশের চিংড়িশিল্পে বিপর্যয় চললেও তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠেন রপ্তানিকারকরা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি রপ্তানি হয় ৩৩২.৬৫ মিলিয়ন ডলারের। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪১৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে ৯৬.৭০ মিলিয়ন ডলারের চিংড়ি রপ্তানি হয়। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১.১০ শতাংশ কম এবং একবছর আগের একইসময়ের চেয়ে ৩.৩৫ শতাংশ কম।

রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করে বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আমরা করোনা মহামারির মধ্যেও কারখানার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংকের জটিলতার কারণে এখনো কোনো রপ্তানিকারক সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুবিধা পাননি।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ওপর ৩০ শতাংশ ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করার পরও ঘুরতে হচ্ছে। রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে।

এখন বাগদা ও গলদা চিংড়ি আহরণের পূর্ণ মৌসুম। কিন্তু তারল্য সংকটের কারণে রপ্তানিকারকরা শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে করে প্রান্তিক চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান রপ্তানিকারকরা। অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত চাষি, ঘের মালিক, খামারিদের সহযোগিতার জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা প্রস্তুত করছে মৎস্য বিভাগ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English