অভিনয় জগতে রাজত্ব করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণের একটি হলো বয়সকে নিয়ন্ত্রণ। বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন হয়তো সেটা খুব ভালোভাবেই পেরেছেন। ৭৮ তম জন্মদিনেও প্রাণবন্ত এই জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা। করোনা জয়ী মানুষটি গতকাল মধ্যরাত পর্যন্তও ব্যস্ত ছিলেন কেবিসির সেটে। জন্মদিনের শুরুটা কেমন ভাবে হল তার ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বিগ-বি।
কাজপ্রেমী মানুষটি করোনা পরিস্থিতিতেও বের হয়েছেন বাড়ির বাইরে। সাময়িক কাবু করলেও করোনা টলাতে পারেনি বিগ-বিকে। কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। শেয়ার করেছেন নিজের কষ্ট, একাকীত্ব ও মন খারাপের কাহিনি। হাসপাতালে থাকা কালীন তিনি বারবার করে বাবা হরিবংশ রাই বচ্চনের উপদেশ নিয়ে কলম ধরেছিলেন। জন্মদিনের শুরুটাও সেভাবে করলেন অমিতাভ বচ্চন। শুটিং করার পর মাঝরাত পর্যন্ত চলছিল শোয়ের ডাবিং। সেই ছবিই টুইট করেছেন অমিতাভ। ক্যাপশনে তার বাবার বলা কথা “জীবন যতদিন রয়েছে ততদিনই সংগ্রাম”।
১৯৪২ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে হিন্দু-শিখ পরিবারে অমিতাভ বচ্চনের জন্ম। তার বাবা হিন্দি কাব্যসাহিত্যের এক বিশিষ্ট ব্যক্তি হরিবংশ রাই বচ্চন এবং মা তেজি বচ্চন।
অমিতাভ বচ্চনের অভিষেক ঘটে ১৯৬৯ সালে খাজা আহমেদ আব্বাস পরিচালিত ‘সাত হিন্দুস্তানি’ সিনেমায়। প্রথম সিনেমাতেই তাক লাগিয়ে দেন তিনি। সেরা নবাগত হিসেবে অর্জন করেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এতে সাত জন নায়কের একজন ছিলেন অমিতাভ।
১৯৭১ সালে রাজেশ খান্নার সঙ্গে সহ-অভিনেতা হিসেবে ‘আনন্দ’ সিনেমায় অভিনয় করেন অমিতাভ। এ সিনেমাটির জন্য তিনি ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কার পান। এর এক বছর পর ‘পরওয়ানা’ সিনেমায় প্রথমবার নেতিবাচক চরিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার।
১৯৭৩ সালে পুলিশ চরিত্রে ‘জানজির’ সিনেমায় অভিনয় করেন অমিতাভ। এরপর একই বছর অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ির সঙ্গে ঘর বাঁধেন তিনি। তারা দু’জন জুটি বেঁধে বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করেন। তাদের দুই সন্তান শ্বেতা নন্দা এবং অভিষেক বচ্চন। অভিষেকও পেশায় অভিনেতা এবং তার স্ত্রী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।
অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে রাজনীতিতেও যোগ দিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। ১৯৮৪ সালে পারিবারিক বন্ধু রাজীব গান্ধীর সমর্থনে এলাহাবাদে লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। ভারতের উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচ এন বহুগুনার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ান এবং সাধারণ নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোট পার্থক্যে জয়লাভ করেন তিনি।
তবে তিন বছর পর রাজনীতিকে ‘নর্দমা’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর আর তাকে রাজনীতিতে দেখা যায়নি। ১৯৮৮ সালে আবারও অভিনয়ে ফেরেন অমিতাভ।
অমিতাভ বচ্চন ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ক্রমাগত ভারতীয় চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন তার অসাধারণ অভিনয় শৈলী দিয়ে। তার অভিনীত ব্যবসাসফল সিনেমার দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে ‘জানজির’, ‘শোলে’, ‘অভিমান’, ‘কুলি’, ‘ডন’, ‘সিলসিলা’, ‘মুহাব্বতান’, ‘ভগবান’, ‘সরকার’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘ব্ল্যাক’ ও ‘পা’সহ অসংখ্য সিনেমা। ৫০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় দুইশ’রও বেশি সিনেমায় অভিনয় ‘শাহেনশাহ’।
অভিনেতা ছাড়াও অমিতাভ বচ্চন একজন প্রযোজক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও কণ্ঠশিল্পী। অমিতাভের জন্মদিনে বলিউডের বড় বড় তারকারা তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। এছাড়া ভক্তরা এই অভিনেতার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করেছে বিশেষ প্রার্থনার।