আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার খবরে বাগেরহাটের শরণখোলার সুন্দরবন কেন্দ্রীক প্রায় চার হাজার জেলে পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। জেলেরা বলেন, আমাদের বিকল্প কোনো আয়ের পথ খোলা নেই। একদিন বনে না গেলে সংসার চলে না। এই অবস্থায় সুন্দরবনে মাছের পাস বন্ধ হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের মরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
অবরোধ চলাকালীন সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ধরার অনুমতি (পাস) চেয়ে রবিবার সকাল ১১টায় শরণখোলা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব কথা বলেন সুন্দরবনের কয়েক শ জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
তারা বলেন, আমরা সুন্দরবনের সাধারণ জেলে। আমরা বনের বিভিন্ন ছোট খালে চরগড়া, চরপাটা জাল পেতে ও বড়সি দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের কোনো জেলের ইলিশ আহরণের জাল নেই।
এ ছাড়া চলতি বছরের জুন-জুলাই দুই মাস সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এখন আবার ২২ দিনের অবরোধ। এই ঘোষনায় হাজার হাজার জেলে পরিবারে হাহাকার শুরু হয়েছে। তাই সরকারের কাছে সুন্দরবনে অবরোধ সিথিল করার দাবি জানাই।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন মৎস্যজীবী নেতা এমাদুল হক শরিফ, সোলায়মান ফরাজী, জাহাঙ্গীর হোসেন, এসএম মাহাবুব হোসেন সেলু প্রমুখ। কর্মসূচি শেষে প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ), বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবরে এসব দাবি সম্বলিত একটি পত্র প্রেরণ করেন তারা।
এ ব্যাপারে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগী বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ২২ দনের অবরোধের এই সময়টা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে উকূলীয় নদ-নদীতে উঠে আসে। তাই মা ইলিশ সংরক্ষণ ও নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার জন্য সুন্দরবনসহ দেশের সকল জলাশয়ে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ। জেলেদের দাবি মানবিক হলেও তা অযৌক্তিক।