রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

সাহাবিদের দানশীলতা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের ধন-সম্পত্তি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করাকে সদকা বা দান বলে। কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় সম্পদ ব্যয় তথা দানের কথা বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) বিভিন্ন সময় সাহাবিদের দান করতে উৎসাহিত করেছেন। ফলে তাঁরা মানুষের জন্য অর্থ ব্যয়ে আগ্রহী হন এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু করেন। সাহাবিদের দানশীলতার কিছু নমুনা তুলে ধরা হলো।

আবু বকর (রা.)

জায়েদ বিন আসলাম (রহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ওমর (রা.)-কে আমি বলতে শুনেছি, রাসুল (সা.) (তাবুকের যুদ্ধের সময়) আমাদের দান করার নির্দেশ দেন। সৌভাগ্যক্রমে সে সময় আমার সম্পদও ছিল। আমি (মনে মনে) বললাম, যদি আমি কোনো দিন আবু বকর (রা.)-কে অতিক্রম করে যেতে পারি, তাহলে আজই সেই সুযোগ। ওমর (রা.) বলেন, আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে এলাম। রাসুল (সা.) বলেন, তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য তুমি কী রেখে এসেছ? আমি বললাম, এর সমপরিমাণ। আর আবু বকর (রা.) তাঁর সব সম্পদ নিয়ে এলেন। তিনি বললেন, হে আবু বকর! তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য তুমি কী রেখে এসেছ? তিনি বলেন, তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি। আমি বললাম, কখনো আমি কোনো বিষয়ে আবু বকরকে অতিক্রম করতে পারব না। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৭৫)

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ওমর (রা.) খায়বারে কিছু জমি লাভ করেন। তিনি এ জমির ব্যাপারে পরামর্শের জন্য রাসুল (সা.)-এর কাছে এলেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি খায়বারে এমন উত্কৃষ্ট কিছু জমি লাভ করেছি, যা আগে আর কখনো পাইনি। আপনি আমাকে এ ব্যাপারে কী আদেশ দেন? রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি ইচ্ছা করলে জমির মূলস্বত্ব ওয়াকফে রেখে উৎপন্ন বস্তু সদকা করতে পারো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৩৭)

উসমান (রা.)

উসমান (রা.) অবরুদ্ধ হলে তিনি ওপর থেকে সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আর আমি নবী (সা.)-এর সাহাবিদেরকেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনারা কি জানেন না যে রাসুল (সা.) বলেছিলেন, যে ব্যক্তি রুমার কূপটি খনন করে দেবে, সে জান্নাতি এবং আমি তা খনন করে দিয়েছি। আপনারা কি জানেন না, তিনি বলেছিলেন—যে ব্যক্তি তাবুকের যুদ্ধে সেনাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করবে, সে জান্নাতি এবং আমি তা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবিরা তাঁর কথা সত্য বলে স্বীকার করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৭৮)

আয়েশা (রা.)

উরওয়া ইবনে জুবায়ের আয়েশা (রা.) সম্পর্কে বলেন, তাঁর কাছে যা আসত সব কিছু তিনি দান করে দিতেন। তিনি নিজের জন্য কিছুই জমা রাখতেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৫০৫)

জয়নব (রা.)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-এর কোনো এক স্ত্রী রাসুল (সা.)-কে বললেন, আমাদের মধ্য থেকে কে সবার আগে (ইন্তেকালের পর) আপনার সঙ্গে মিলিত হবে? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা। তাঁরা একটি বাঁশের কাঠির মাধ্যমে হাত মেপে দেখতে লাগলেন। সাওদার হাত সবার হাতের চেয়ে লম্বা বলে প্রমাণিত হলো। পরে সবার আগে জয়নব (রা.)-এর মৃত্যু হলে আমরা বুঝলাম হাতের দীর্ঘতার অর্থ দানশীলতা। জয়নব (রা.) আমাদের মধ্যে সবার আগে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে মিলিত হন এবং তিনি দান করতে ভালোবাসতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২০)

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English