দাফনের ৩ বছর ৮ মাস ১৪ দিন পর আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য মো. হাসান প্রকাশ কালাইয়া (৩৫) নামের এক যুবকের লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নোয়াখালীর এক্সিটিউটিভ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (পিবিআই) মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই মোবারক, এসআই ফরিদ ও সেনবাগ থানার এএসআই সুফিয়ানের উপস্থিতে লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এ সময় মামলার বাদী শহিদ উল্লাহ, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বেলায়েত হোসেন হাজারী, সমাজসেবক এমএ মাজেদ মাসুদ মিয়াসহ বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
মামলার সুত্রে জানা গেছে,বিগত ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে ডমুরুয়া হাজারী বাড়ির শহিদউল্লাহর বড় ছেলে মো. হাসান প্রকাশ কালাইয়া তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ডিপ-টিউবওয়েল ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একই এলাকার গোলাম রসুল, রাজন প্রকাশ রাজু, মহসিন ওই মটর ঘরে গিয়ে কালাইয়াকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নেশাজাতীয় মদ খেতে বলে। কালাইয়া মদ না খেয়ে তাদের ঘর থকে বের হয়ে চলে যেতে বললে সাথে সাথে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কালাইয়ার মাথায় আঘাত করলে সে মারা যায়। পরবর্তীতে তারা লাশ ওই ঘরে রেখে পালিয়ে যায়।
পরদিন সকালে তার মৃত্যুর সংবাদটি জানাজানি হলে সেনবাগ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহত কালাইয়ার পিতা শহিদ ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। মামলাটি সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত করে মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। কিন্তু মামলার বাদী সিআইডির দাখিল করা রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে নারাজি দাখিল করেন।
এরপর আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর ন্যস্ত হয়। তারা বুধবার তদন্তের প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফরেনসিক টেস্টের জন্য লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করে।