রাজধানী ঢাকার শাহবাগ চত্বরসহ সারা দেশে জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় সদরে আগামী ৭ নভেম্বর গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসুচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও কুমিল্লার মুরাদনগরের সংখ্যালঘু এলাকায় আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন, অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।
সংবাদ সম্মেলন বেশ কিছু দাবি তুরে ধরা হয়। এগুলো হলো-গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি, শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন। এসব দাবিতে ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণঅবস্থান কর্মসূচি চলবে।
অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, আমরা ভেবেছিলাম করোনাভাইরাস সমাজকে অনেক বেশি মানবিক করবে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, গত ৮ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখে শুনে মনে হয় ব্যতিক্রমবাদে সমাজের মানবিকতা অনেক বেশি নিম্নগামী হচ্ছে। একদিকে নারী, আরেক দিকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মকে হেয় করে তাদের ধর্মানুভূতিতে প্রতিনিয়ত আঘাত করে নানান অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ৭ মাসে ২৭টি প্রতিমা ভাংচুর, ২৩টি মন্দিরে হামলা, ৫টি শ্মশান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে। বসতভিটা, জমিজমা ও শ্মশান থেকে উচ্ছেদের ঘটনা ২৬টি। দেশত্যাগের হুমকি ৩৪ জনকে। গ্রামছাড়া ৬০ পরিবার। ধর্মান্তকরণ ৭ জন। ধর্ম নিয়ে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৪ জনকে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের মহানগর সভাপতি প্রকৌশলী পরিমল কান্তি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব প্রমুখ।