লোডশেডিংয়ের কারণে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া ছয় দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে। এতে হাতিয়া শহর ও আশপাশের এলাকার দুই হাজার ৩০০ গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ভর্তি রোগী ও অপারেশনে বিঘ্ন ঘটছে।
হাতিয়াবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
হাতিয়া পৌরসভার বিদ্যুৎ গ্রাহক ওছখালী বাজারের ব্যবসায়ী উত্তর সাহা, সাহেদ উদ্দিন ও রিয়াদ উদ্দিন জানান, ছয় দিন ধরে বিদ্যুতের তীব্র শুরু হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টারও কম সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। একবার বিদ্যুৎ এসে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি থাকে না। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার এ ভেল্কিবাজিতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
গৃহবধূ জাহেদা বেগম মেরী ও হাসিনা বেগম জানান, হঠাৎ করে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের ফ্রিজে রক্ষিত মাছ, মাংস ও জরুরি ওষুধ নষ্ট হয়ে গেছে।
বিদ্যুতের অভাবে ছয় দিন ধরে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেপে জরুরি প্রসূতি অপারেশন বন্ধ রয়েছে। হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেপের মেডিকেল অফিসার ডা. নিজাম উদ্দিন বলেন, ছয় দিন ধরে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। ৩০-৪০ মিনিট পর পর লোডশেডিং শুরু হয়ে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতে করে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন বোর্ড হাতিয়া উপজেলা কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী (আরই) মো. মশিউর রহমান জানান, হাতিয়া উপজেলার পৌর এলাকায় দুই হাজার ৩০০ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৬০০ আবাসিক গ্রাহক এবং ৭০০ বাণিজিক গ্রাহক। হাতিয়ায় মোট দুই হাজার ৫০০ কিলোওয়াট (২.৫০ মেগাওয়াট) বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।
তিনি বলেন, তিনটি জেনারেটরের মাধ্যমে প্রতিদিন এক হাজার ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে গত ৩০ অক্টোবর থেকে বড় দুটি জেনারেটর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম বিঘ্ন ঘটছে। ছোট একটি জেনারেটর দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়। আগামী শুক্রবার বিকল জেনারেটরগুলো মেরামতের কাজ শুরু হবে।