সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় তারকারা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৬ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে দেশে সংকুচিত হয়েছে কাজের পরিবেশ। দীর্ঘসময় বন্ধ ছিল সবকিছু। অভিনয় অঙ্গনেও করোনার প্রভাব ছিল প্রকটভাবে। লকডাউন পরবর্তী গত তিন মাস ধরে ক্রমান্বয়ে কাজে ফিরলেও অভিনয় শিল্পীরা রয়েছেন দ্বিধায়।

কারণ আবারও করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে শঙ্কিত সবাই। বিশেষ করে তারকাশিল্পীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি শঙ্কিত। কয়েকজন তারকার সঙ্গে কথা বলে আজকের এ প্রতিবেদন ।

চলতি বছরের মার্চ থেকেই অন্যান্য সেক্টরের মতো স্বাভাবিকতা হারিয়েছে দেশের বিনোদন জগৎ। করোনার প্রকোপের কারণে পুরনো সব নিয়ম-কানুনও পরিবর্তিত হয়েছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য কিছুদিন লকডাউনে ছিলেন সবাই।

তবে অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে বিধি-নিষেধ বেঁধে দিয়ে বিনোদন অঙ্গনেও কাজ শুরু হয় গত রোজার ঈদের পর থেকে। সচেতনতার কারণে গত কয়েক মাস কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল বিনোদন জগৎ। শুটিং করছেন বেশিরভাগ অভিনয়শিল্পী। তবে চলতি মাস থেকে আবার শঙ্কা চেপে বসেছে মাথায়। শোনা যাচ্ছে, শীতের সময় করোনাভাইরাসের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। এতে করে এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করছে শিল্পীদের। বিশেষ করে যারা এখন অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন, তাদের শঙ্কাটা বেশি।

সেই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করবেন কিংবা আদৌ শুটিং করবেন কি না, এ নিয়ে তারকারা ভীতিকর এক পরিবেশের মধ্যে আছেন। এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘শীতে যদি করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পায় তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে।

যেহেতু সচেতনতা ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য এখনও কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি, তাই শঙ্কাটা থেকেই যাবে। যদি পরিস্থিতি খারাপ হয় তাহলে শুটিং বন্ধ করতে হবে আমাকেও। সে ক্ষেত্রে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে সবার। কারণ এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রজেক্টের সঙ্গে আমি যুক্ত হয়েছি। সেসব কাজ বন্ধ করতে হতে পারে তখন। এত দুশ্চিন্তা নিয়ে তো সৃজনশীল কাজ করা যাবে না। আমার বিশ্বাস আল্লাহ আমাদের এ দুর্যোগ থেকে রক্ষা করবেন।

রোজার ঈদের পর থেকে নিয়মিত কাজ করছেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তিনিও করোনার বিস্তার নিয়ে বেশ শঙ্কিত। এ অভিনেতা বলেন, ‘শীতে যদি করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয় তাহলে সত্যিই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

কারণ আমি যদি দীর্ঘদিন কাজ না করি তাহলেও স্বাভাবিকভাবেই জীবন ধারণ করতে পারব। কিন্তু যারা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন, তারা অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে পড়বে। এ ধরনের পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, তার জন্য আগে থেকেই কিছু পরিকল্পনা নেয়া দরকার। এতে করে মানবিক বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব। আমি সত্যিই এ বিষয় নিয়ে চিন্তিত। তাছাড়া এমনিতেই ব্যাপক রকমের দুশ্চিন্তা নিয়ে শুটিং করছি। স্বাস্থ্যবিধি অনেকেই মানছেন না। যদি শীতে করোনা বাড়ে তাহলে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না আমাদের।

কাজ শুরুর পর এখনও আগের মতো পুরোদমে কাজ করতে পারছেন না অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। কারণ মনে ভয়। তিনি বলেন, ‘আমি তো লকডাউনের সময় থেকেই কম কাজ করছি। কারণ কখন কীভাবে এ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হব, তা আমরা কেউই জানি না।

তাই নির্মাতাদের অনুরোধে মাঝে মধ্যে অভিনয় করছি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেকদিন ধরেই অভিনয় করছি না। আমি নিয়ম মানতে রাজি আছি। কিন্তু এখনকার থেকেও যদি ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় তাহলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তখন মনে হয় আরেকবার লকডাউনে যেতে হবে। এ বিষয়ে সঠিক একটি কর্মপরিকল্পনা যেন নেয়া হয়।’

গত কোরবানির ঈদের মাত্র একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। এরপর আবারও তিনি বিরতিতে আছেন। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তো করোনাভাইরাস আসার পর থেকেই কাজ কম করছি। যাও করছি সেগুলোতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রেখেই করছি। তবে যে কোনো কাজের পর বাসায় আইসোলেশনে থাকছি। কিন্তু এভাবে বেশিদিন কাজ করা সম্ভব নয়। সিনেমার কাজের প্রস্তাব এলেও ইচ্ছা করেই দেরি করছি কাজ শুরু করতে।

কারণ করোনায় কাজ করতে বাসা থেকে নিরুৎসাহিত করা হয় আমাকে। তারপরও বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের কাজ করেছি কিছুদিন। তবে এখন সহসাই নতুন কাজে যুক্ত হচ্ছি না। শুনেছি শীতে করোনার শক্তি বৃদ্ধি পাবে। তাই যদি হয় তাহলে আমিও কাজ করা থেকে বিরত থাকব। কারণ কাজের চেয়েও জীবনের মূল্য অনেক বেশি।’

এদিকে পুরোদমেই কাজ করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। আবার করোনার বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য তো দীর্ঘদিন শুটিংই করিনি। তবে অভিনয় যেহেতু পেশা তাই এটি থেকে কতদিন আর দূরে থাকা যায়। যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করছি কিছুদিন আগে থেকে। এ সময়ের মধ্যে মনে হয় করোনার প্রকোপ কম ছিল। কিন্তু সবাই বলাবলি করছেন, শীতে আমাদের দেশে করোনার শক্তি বৃদ্ধি পাবে। যদি তাই হয় তাহলে কীভাবে শুটিং করব কিংবা জীবনযাপন করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। তবে সর্বোপরি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস আছে। তিনিই আমাদের রক্ষা করবেন সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে।’

করোনায় আক্রান্তও হয়েছিলেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। সুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন পর কাজে ফিরে তিনিও বেশ চিন্তিত। এ নায়িকা বলেন, ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলার পরও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে এখন সুস্থ আছি। তারপরও চিন্তা হয় এ ভাইরাস নিয়ে। শুনেছি একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যদি খবরটি সত্যি হয় তাহলে তো দুশ্চিন্তা থাকবেই। শীতে যদি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায় তাহলে নতুন পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করতে হবে।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English