রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

হজরত আয়েশার বিয়ে ও বয়স

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন

রাসূল সা:-এর সাথে বিয়ে হওয়ার সময় হজরত আয়েশা রা: ও তাঁর বয়স সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে। এখানে আমরা বিভিন্ন প্রামাণিক বর্ণনা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আয়েশার দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিভিন্ন ঘটনায় তাঁর প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে সত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব।
১. প্রথমেই আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে, রাসূল সা: যখন আল্লাহর বাণী পান এবং তা প্রচার করতে শুরু করেন তখন আরবের অধিকাংশ লোক নিরক্ষর ছিল। রাসূল সা: নিজেও লিখতে বা পড়তে পারতেন না। তাছাড়া, আরবদের কোনো স্বীকৃত বর্ষপঞ্জি ছিল না। তারা বিভিন্ন বিষয়ের তারিখ নির্ণয় করত তাদের জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বড় ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ফলে, বড় কোনো ঘটনা ঘটার পর তাদের নির্ণয় করা তারিখেরও পরিবর্তন হয়ে যেত। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, রাসূল সা: হস্তির বছরে জন্মগ্রহণ করেন বলে বলা হয়। এই হস্তির বছরটা হলো ওই সময় যখন ইয়েমেনের শাসনকর্তা আবরাহা কাবাগৃহ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে একটা বিরাট বাহিনী নিয়ে আসেÑ ওই বাহিনীর পুরোভাগে ছিল একটা হাতি।
আরবদের জন্ম ও মৃত্যুর কোনো নিবন্ধন ছিল না। সুতরাং, ওই সময় কোনো লোকের বয়স উল্লেখ করার সময় তা প্রায় সঠিক বলে গ্রহণ করা হতো। একটা দৃষ্টান্ত দেয়া যেতে পারে। রাসূলের সময়ে অনেকে গোত্র প্রধান ছিলেন, যেমন রাসূলের দাদা আবদ আল-মুত্তালিব এবং দু’জন প্রসিদ্ধ কবি হাসান ইবন ছাবিত ও আল-নাবিঘা আল-জুয়াদি। তারা ১২০ বছর জীবিত ছিলেন বলে বলা হয়। তাদের কেউ ১১৫ বছর বা ১২৫ বছর জীবিত ছিলেন বলে বলা হয় না, বরং তারা সবাই ১২০ বছর করে জীবিত ছিলেন বলে সরলীকরণ করে বলা হয়। আবার, একই ব্যক্তির বয়স বিভিন্ন রকম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসূলের প্রথম স্ত্রী খাদিজা যখন রাসূল সা:কে বিয়ে করেন তখন তার বয়স ৪০ বছর ছিল বলে প্রায় ক্ষেত্রেই বলা হয়। তবু তিনি ছয় সন্তানের জন্ম দেন। এতে ধরে নেয়া যায় যে, ওই সময় তিনি সন্তান জন্ম দেয়ার উৎকৃষ্ট সময়ে ছিলেন। ৪০ বছরের একজন মহিলা এক বা দুটি সন্তান জন্ম দিতে পারে, কিন্তু দশ বছরের বেশি সময়ে ছয়টি সন্তান জন্ম দেয়া একেবারে অসম্ভব। অন্যান্য একাধিক বর্ণনায় দেখা যায় যে, বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল পঁয়তাল্লিশ, পঁয়ত্রিশ, ত্রিশ, আঠাশ এবং এমনকি পঁচিশ বছর। একই পুস্তকে এমন ভিন্ন ভিন্ন বয়সের কথা উল্লেখ থেকে আমরা ধারণা করতে পারি যে, উল্লেখিত সংখ্যার কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বিশ্বস্ত নয়। তাছাড়া, প্রাথমিক যুগের আরব ও মুসলিম ঐতিহাসিকগণ সময়কালের চেয়ে অতি বেশি গুরুত্ব দিতেন ঘটনার ওপর। তারা প্রায়ই সময়কাল উল্লেখ না করে ঘটনা বর্ণনা করতেন। এর ফলে তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি এবং সময়ের বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায়।
এ অবস্থায় মানুষের বয়সের বিষয়টি সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। সাধারণ মত হলো এই যে, রাসূল সা: যখন আয়েশাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন তখন তার বয়স ছিল ছ’বছর এবং তার নয় বছর বয়সের সময় সত্যিকার বিয়ে সম্পন্ন হয়। আমরা মনে করি যে, এটা সঠিক নয়। রাসূল সা:-এর সাথে আয়েশার বিয়ের সময়ের বয়স নির্ধারণ করার প্রচেষ্টায় আমাদের প্রথমেই এটা বিবেচনা করা প্রয়োজন যে, বিয়ের আগে জুবায়র ইবন মুতইমের সাথে তার বাগদান হয়। তাঁর পিতা আবু বকরকে যখন বলা হয় যে, রাসূল তাঁকে (আয়েশাকে) বিয়ে করতে চান তখন তিনি বলেন : ‘মুতইম পরিবার ইতোমধ্যে তাদের পুত্রের জন্য তাঁর (আয়েশার) কথা বলেছে। আমি কৌশলে তা থেকে তাঁকে (আয়েশাকে) বের করে আনব।’ এ থেকে জানা যায় যে, ওই বাগদান ছিল অনমনীয়, কারণ তা বাতিল করার জন্য আয়েশার পিতাকে কৌশল অবলম্বনের প্রয়োজন ছিল। দুটো পরিবারের মধ্যে এটা শুধু সাধারণ আলোচনার বিষয় ছিল না।
এখন দেখা যাক, আয়েশাকে বিয়ে করার ধারণা রাসূলের কিভাবে হলো। রাসূল সা: খাদিজাকে বিয়ে করেন মধ্য-কুড়ি বছর বয়স বা তার আগে। তাঁরা একসাথে পঁচিশ বছর সুখে জীবনযাপন করেন। তাঁদের দুটি পুত্রসন্তান এবং চারটি কন্যাসন্তান হয়। শিশু বয়সেই ওই দুই পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়। রাসূলের মিশন শুরু হওয়ার সময় তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা জয়নাবের বিয়ে হয় আবু আল-আস ইবন আল-রাবির সাথে। তাঁর দ্বিতীয় কন্যা রুকাইয়া এবং তৃতীয় কন্যা উম্মে কুলসুমের বাগদান হয় উতবা ও উতাইবার সাথেÑ উতবা ও উতাইবা হলেন রাসূলের চাচা আবু লাহাবের দুই পুত্র। ওই বাগদান ভেঙে ফেলার জন্য আবু লাহাব তার দুই পুত্রকে নির্দেশ দেন এবং তারা তা-ই করে। অতঃপর রুকাইয়াকে বিয়ে দেয়া হয় উসমান ইবন আফফানের সাথে। ইসলাম প্রচার শুরু হওয়ার পঞ্চম বছরে রাসূলের উপদেশ অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু মুসলিম আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। এদের মধ্যে উসমান ও রুকাইয়া ছিলেন। পাঁচ বছর পর, অর্থাৎ ইসলামী প্রত্যাদেশ শুরু হওয়ার দশম বছরে এবং মদিনায় মুসলিমদের হিজরতের তিন বছর আগে খাদিজা রা: মারা যান। তার মৃত্যুর পর প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলিম হওয়া একজন মহিলা খাওলা বিনতে হাকিম উপলব্ধি করেন যে, খাদিজার মৃত্যু রাসূলের জন্য একটা বিরাট ক্ষতি। এর ফলে তার জীবনে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তিনি (খাদিজা) এমন একজন মহিলা ছিলেন যিনি রাসূলের জন্য একটা সুখী ও আরামদায়ক গৃহ নিশ্চিত করেন, যেখানে তিনি মক্কার অধিকাংশ লোকের তাঁর প্রতি তাদের দৃঢ় বৈরিতার কথা ভুলতে পারেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English