রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

ছবিযুক্ত হেলমেট ব্যবহারে সতর্কতা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন

এখন রাস্তায় বের হলেই রংবেরঙের হেলমেট চোখে পড়ে। বিশেষ করে যারা মোটরসাইকেল চালায় তাদের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক। মূলত হেলমেট মাথার সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের শিরস্ত্রাণ। এটাকে মাথার বর্মবিশেষও বলা যেতে পারে। দুর্ঘটনায় এটি মাথাকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। হেলমেটের ইতিহাস কত দিনের, তা নিশ্চিত করে বলা দুষ্কর। তবে সর্বপ্রথম খ্রিস্টপূর্ব ৯০০ সালে অ্যাসিরীয় সৈন্যদের হেলমেট ব্যবহারের কথা জানা যায়। এই হেলমেটগুলো মোটা চামড়া বা ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করা হতো এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ভোঁতা বস্তু, তলোয়ার ও তীরের আঘাত থেকে মাথার সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হতো।

আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-ও যুদ্ধক্ষেত্রে মাথার নিরাপত্তার জন্য হেলমেট ব্যবহার করেছেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) মক্কা বিজয়ের বছর যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ (হেলমেট) ছিল। (বুখারি, হাদিস : ৫৮০৮)

এতে বোঝা যায় যে রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় উম্মতদের সতর্কতা অবলম্বনের শিক্ষাও দিয়ে গেছেন। যেখানে বিপদের ভয় আছে সেখানে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বর্তমান যুগেও সেনাবাহিনীর সদস্য, যুদ্ধবিমানের পাইলটরা হেলমেট ব্যবহার করেন। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হেলমেট ব্যবহার করতে হয় মাঠের বিভিন্ন খেলোয়াড়কেও।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথা ও মস্তিষ্ককে নিরাপদ রাখতেও হেলমেট ব্যবহার করতে হয়। মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর আইন করা হয়েছে। হেলমেট ব্যবহার না করলে কোনো পাম্প থেকে তেল কেনাও সম্ভব হয় না। তাই ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় প্রায় প্রত্যেক রাইডারই এখন হেলমেট ব্যবহার করে। হেলমেট হয়ে উঠেছে ফ্যাশনের অংশ। সুরক্ষার কথা চিন্তা করলে এটি একটি ভালো খবর, কিন্তু অনেকেই ফ্যাশনেবল হেলমেট ব্যবহার করতে গিয়ে বিভিন্ন উদ্ভট ছবিসংবলিত হেলমেট পরেন। যেগুলো একজন মুসলমানের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি আমাদের কাছে অনেক হালকা মনে হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক জঘন্য হতে পারে। কারণ একবার শুধু ছবির কারণে জিবরাঈল (আ.) অহি নিয়ে ঘরে আসতে পারেননি।

সালিমের পিতা (আবদুল্লাহ ইবনে ওমর) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ.) (একবার) নবী (সা.)-এর নিকট (আগমনের) ওয়াদা করেন। কিন্তু তিনি আসতে দেরি করেন। এতে নবী (সা.)-এর খুবই কষ্ট হচ্ছিল। এরপর নবী (সা.) বের হয়ে পড়লেন। তখন জিবরাঈলের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত ঘটল। তিনি যে মনঃকষ্ট পেয়েছিলেন সে বিষয়ে তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন। তখন জিবরাঈল (আ.) বলেন, যে ঘরে ছবি বা কুকুর থাকে সে ঘরে আমরা কখনো প্রবেশ করি না। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৬০)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আয়েশা (রা.) বলেন, একবার আমি ছবিওয়ালা গদি খরিদ করলাম। রাসুল (সা.) যখন তা দেখতে পেলেন, তখন দরজার ওপর দাঁড়িয়ে গেলেন। প্রবেশ করলেন না। [আয়েশা (রা.)] রাসুল (সা.)-এর চেহারার অসন্তুষ্টি বুঝতে পারলেন। তখন তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে ও তাঁর রাসুলের কাছে এই গুনাহ থেকে তাওবা করছি। নবী (সা.) বলেন, এই গদি কোথা থেকে এলো? আয়েশা (রা.) বলেন, আপনার উপবেশন ও হেলান দেওয়ার জন্য আমি এটি ক্রয় করেছি। রাসুল (সা.) তখন বলেন, এসব ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন আজাব দেওয়া হবে এবং তাদের বলা হবে তোমরা যা বানিয়েছিলে তা জীবিত করো। তিনি (সা.) আরো বলেন, যে ঘরে (প্রাণীর) ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৬১)

যেখানে ছবির কারণে জিবরাঈল (আ.) আল্লাহর রাসুলের কাছে পর্যন্ত গেল না, সেখানে যারা মাথায় ছবিযুক্ত কিংবা ইলুমিনাতি চিহ্নসংবলিত হেলমেট ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালায়, তাদের কাছে রহমতের ফেরেশতা কিভাবে যাবে! তাই আমাদের উচিত হেলমেট কেনার সময় এমন হেলমেট কেনা, যেগুলোতে কোনো ইলুমিনাতি চিহ্ন বা প্রাণীর ছবি নেই। এর বাইরে অনেক সুন্দর অরিয়েন্টাল ডিজাইন বা টাইপোগ্রাফি ডিজাইন সংবলিত হেলমেট পাওয়া যায়। আমরা চাইলে সেগুলোও নিতে পারি। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English