তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তাদের কথাতেই সেটি প্রতিফলিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইনে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেন’ শীর্ষক সভায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন টয়েলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী, শহীদ নূর হোসেনের ভাই আওয়ামী মটরচালক লীগের সভাপতি আলী হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট বলরাম পোদ্দার, এম এ করিম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, সাবেক ছাত্রনেতা মানিক লাল ঘোষ প্রমুখ।
ড. হাছান বলেন, বিএনপি নেতাদের বলবো, তারা যে পথে হাঁটছেন, যেভাবে নির্বাচন বানচালে অতীতে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন, এটি দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং আজকেও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে অপচেষ্টা, সেটিও মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক। এতে দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিএনপি নিজেদের মধ্যে অনৈক্য ঘুচাতে এবং শক্তিশালী হতে পারছে না। বিএনপি যদি তাদের এই ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার না করে, মানুষকে জিম্মি করা, পেট্টোল বোমায় পুড়িয়ে হত্যার পথ পরিহার না করে, তাহলে তাদের কখনো আর জনগণের প্রিয় হওয়ার সুযোগ নেই।
ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, গত এক যুগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে অভুতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, এতে জননেত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে, জনগণ তো অন্য কোনো দলকে ভোট দেয়ার কথা নয়। সুতরাং বিএনপি এই নির্বাচনে পরাজিত জেনেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। সে লক্ষ্যেই বহু আগে থেকে তারা এই কথাগুলো বলে আসছে, আজকেও সে একই কথার প্রতিধ্বনি। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে সংস্কৃতি তারা লালন করছে, সাত সমুদ্র-তেরো নদীর ওপারের অনেকের সঙ্গে এটি মিলে যাচ্ছে। আমি তাদের বলবো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে।
শহীদ নূর হোসেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. হাছান বলেন, শহীদ নূর হোসেন জীবন দিয়ে তার জীবন্ত পোস্টারকে চির-অবিস্মরণীয় করে রেখে গেছেন। যে গণতন্ত্রকে বাংলাদেশে বারবার শিকলবন্দী করা হয়েছে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নূর হোসেনসহ আরো মানুষের রক্তের বিনিময়েই গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে নূর হোসেনের জীবন্ত পোস্টার দেশের ইতিহাসে জীবন্ত হয়েই থাকবে, গণতন্ত্রের ইতিহাসে তার নাম সবসময় রক্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।