রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

বিশ্ব জাহানের রহমত মুহাম্মদ সা:

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৮ জন নিউজটি পড়েছেন

রাসূল সা:-এর জন্ম নিঃসন্দেহে বিশ্ববাসীর জন্য মহা আনন্দের বিষয়। হাজার হাজার বছর ধরে নবী-রাসূলগণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবং বিশ্বাসী মানুষরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন তাঁর আগমনের। নবী মুহাম্মদ সা: হলেন জগৎসমূহের জন্য রহমত। আল্লøাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আমি তো তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া, আয়াত-১০৭)
প্রিয় নবী সা:কে সমস্ত শরীর তায়েফবাসী রক্তাক্ত করেছিল, তারপরও তিনি এ জাতির জন্য বদদোয়া করেননি।
আবু মূসা আশআরি রা: বলেনÑ রাসূল সা: আমাদেরকে তাঁর নামগুলো বলতেন। ‘আমি মুহাম্মদ, আমি আহম্মদ, আমি আল মুকাফফির, আমি আল হাশির, আমি নাবিইউর তাওবা (আমি তাওবার নবী) এবং আমি নবীইউর রহমত (আমি রহমতের নবী)।’ (সহিহ মুসলিম-১৮২৮)
সম্প্রতি মহানবী সা:-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের দ্বারা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ২০০ কোটি মুসলিমের কলিজায় আঘাত দেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ মহানবী সা: অমুসলিমদের সাথে মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলতেন।
হজরত আনাস বিন মালিক রা: বলেন, একবার আমি রাসূল সা:-এর সাথে পথে চলছিলাম। তখন তিনি নাজরানে প্রস্তুত মোটা পাড়ের চাদর পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে খুব জোরে চাদর টানছিল। অবশেষে আমি দেখলাম, জোরে টানার কারণে রাসূল সা:-এর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। অতঃপর বেদুঈন বলল, আল্লøাহর যে সম্পদ আপনার কাছে আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দেয়ার আদেশ দিন। আল্লøাহর রাসূল সা: তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন আর তাকে কিছু দেয়ার আদেশ দিলেন। (বুখারি-৩১৪৯)
এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা: কতটা অমায়িক ছিলেন। কেমন ছিল প্রিয় নবী সা:-এর ব্যবহার।
মহানবী সা:-এর মর্যাদা সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অবশ্যই তোমাদের মধ্যে যারা আল্লøাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূলুল্লøাহর (চরিত্রে) মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।’ (সূরা আহজাব, আয়াত-২১)
নবীর শানে বেয়াদবির শাস্তি আল্লøাহ অবশ্যই দেবেন : ‘নিশ্চই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে লানত দেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক আজাব। (সূরা আহজাব-৫৭)
এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায়Ñ নবীর শানে বেয়াদবি মানে আল্লøাহ তায়ালার শানে বেয়াদবি করা। আর নবীকে কষ্ট দেয়া মানে আল্লøাহ তায়ালাকে কষ্ট দেয়া। দুনিয়াতে রয়েছে তার জন্য অপমানজনক শাস্তি।
প্রিয় নবী সা: সবার সাথে হাস্যোজ্জ¦ল চেহারায় কথা বলতেন : রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি ভালো কাজ সদকা। আর গুরুত্বপূর্ণ ভালো কাজ হলো অন্য ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা।’ (তিরমিজি-১৯৭০)
অন্য হাদিসে এসেছেÑ তোমার ভাইয়ের (সাক্ষাতে) মুচকি হাসাও একটি সদকা। (তিরমিজি-১৯৫৬)
আর আমরা একে অপরের সাথে মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলব কারণ এটা সুন্নত।
সুন্নত পালন ও জীবিত করলে সবচেয়ে বড় মর্যাদা জান্নাতে রাসূল সা:-এর সাহচর্য পাওয়া যায়। ‘যে আমার সুন্নতকে (পালন ও প্রচারের মাধ্যমে) জীবিত করবে, সে আমাকেই ভালোবাসবে। আর যে আমাকে ভালোবাসবে, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।’ (তিরমিজি-২৬০২)
মক্কার কাফেররা পর্যন্ত মহানবী সা:-এর আমানতদারিতা দেখে আল আমিন ও আস সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিল। আর সেই নবীর বিরুদ্ধে আজ যারা ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছে তারা সবাই আবু জেহেল, আবু লাহাব, ফেরাউন, নমরুদ ও কারুনের উত্তরসূরি। আমরা মুসলিম হিসেবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এটি আমাদের ঈমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য। রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে আমাকে তার পিতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে বেশি ভালোবাসবে।’ (বুখারি-১৪)
আল্লøাহ তায়ালা বলেন, ‘ঈমানদারদের সাথে ওদের দুশমনি। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল না যে, তারা এমন আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল যিনি মহাশক্তি ও যিনি কারো প্রশংসার ধার ধারেন না।’ (সূরা বুরুজ, আয়াত-০৮)। এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়Ñ ইহুদি-খ্রিষ্টানরা মুসলিমদের ওপর এত নির্যাতনের কারণ হলো মুসলমানরা এক ‘ইলাহ’-এর ওপর ঈমান এনেছিল তাই। সর্বশেষ আল্লাহ তায়ালা সবাইকে হেদায়াত দান করুন এবং সারা বিশ্বে মুসলমানদের নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে বিজয়ী হওয়ার তাওফিক দিন এবং আল্লাহ আমাদের সব তৎপরতা কবুল করুন, আমীন। জাতীয় কবির সেই উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করলামÑ
রাসূলের অপমানে যদি কাঁদে না তোর মন,
মুসলিম নয়, মুনাফিক তুই, রাসূলের দুশমন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English