রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

স্ত্রীরোগ ও বুকজ্বলা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৭ জন নিউজটি পড়েছেন

অ্যাসিডিটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রচলিত একটি সমস্যা

অ্যাসিডিটির সাধারণ উপসর্গই হচ্ছে বুকজ্বলা

কিছু কিছু বিশেষ অবস্থা, যেমন গর্ভাবস্থায় এর প্রকোপ বাড়ে

আচার, টমেটোর সস, কমলার রস, পেঁয়াজ, পিপারমেন্ট ইত্যাদি খাবার অনেক সময় বুক জ্বালাপোড়ার জন্য দায়ী

বর্তমানে সবচেয়ে প্রচলিত একটি সমস্যা ‘অ্যাসিডিটি’। এর সাধারণ উপসর্গই হচ্ছে বুকজ্বলা। চিকিৎসকের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাসের জন্যই এ উপসর্গ দেখা যায়। তবে কিছু কিছু বিশেষ অবস্থা, যেমন গর্ভাবস্থায় এর প্রকোপ বেড়ে যায়।

ডা. তেহরীনের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক এবং একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদ
ডা. তেহরীনের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক এবং একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদ
এ ধরনের রোগের উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে আয়োজন করে এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ইজোরাল মাপস স্বাস্থ্য আলাপন’। অনুষ্ঠানটির চতুর্থ পর্বে আলোচনা করা হয় স্ত্রীরোগ ও বুকজ্বলা নিয়ে। ডা. তেহরীনের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক এবং একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদ। এ ছাড়া তিনি ওজিএসবির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডা. মালিহা রশীদ আলোচনা করেন বুকজ্বলার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে। তিনি জানান, হঠাৎ বুক জ্বালাপোড়া—এ সমস্যার সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত। মাঝেমধ্যে পেটে বা গলার কাছাকাছিও এই জ্বলুনি হয়। কখনো কখনো টক-ঝাল ঢেকুর ওঠে। এই ঢেকুরের কারণে গলা-নাকও জ্বলতে পারে। একে ডাক্তারি ভাষায় হার্টবার্ন বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলে। সাধারণত, এটি খাদ্যাভ্যাসের জন্য হয়। বিশেষ করে অনেকেই খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেশি পানি পান করে, আবার খাওয়ার মাঝেও অতিরিক্ত পানি পানের ফলে বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই খাওয়ার আধা থেকে এক ঘণ্টা আগে ও পরে পানি পান করা উচিত। এ ছাড়া আরও কিছু কারণে এটি হতে পারে; যেমন: ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া। কালো গোলমরিচ, সিরকাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।

আচার, টমেটোর সস, কমলার রস, পেঁয়াজ, পিপারমেন্ট ইত্যাদি খাবার অনেক সময় বুক জ্বালাপোড়ার জন্য দায়ী। এ জন্য কিছু জিনিস মেনে চলতে হবে—যেসব খাবার খেলে বা পানীয় পান করলে বুক জ্বালাপোড়া করে, সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে না খেয়ে কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে খেতে হবে। ফলে খাবার দ্রুত হজম হবে এবং পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ও অ্যাসিড উৎপন্ন হবে না। ভাজা মাংসের পরিবর্তে সেঁকা অথবা ঝলসানো মাংস খাওয়া, কম তেল-চর্বি ও মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এরপর আলোচনায় উঠে আসে গর্ভকালে বুক জ্বালাপোড়ার বিষয়টি। ডা. মালিহা রশীদ বলেন, গর্ভকালে এটি খুবই সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু একে অবহেলা করলে চলবে না। বুক জ্বালাপোড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর। অনিয়মিত খাবার গ্রহণ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে এটি হয়। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ প্রভৃতি কারণেও এমন সমস্যা হয়। গর্ভের সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য খাবার গ্রহণেও এসব সমস্যা বাড়ার প্রবণতা থাকে। এ থেকে মুক্তি পেতে কিছু কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে; যেমন: একেবারে ভরপেট অনেক বেশি খাওয়া যাবে না। অল্প অল্প করে খেতে হবে। প্রয়োজনে বারবার খেতে হবে। ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত ঝাল, মসলাদার খাবার, তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শোয়া যাবে না। একটু হাঁটাহাঁটি করে নিতে হবে।

দর্শকদের প্রশ্নের উত্তরে ডা. মালিহা রশীদ আলোচনা করেন মেনোরেজিয়া নিয়ে। তিনি বলেন, সাধারণভাবে মাসিক চলার সময় অধিক রক্তপাত হলে তাকে মেনোরেজিয়া বা অতি রক্তস্রাব বলে। যেকোনো বয়সের নারীরই এই রোগ হতে পারে। তবে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের নারীদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। নানা কারণে এটি হতে পারে। যেমন হরমোনজনিত সমস্যা, জরায়ুতে টিউমার বা ক্যানসার থাকলে, রক্তে কোনো সমস্যা থাকলে, জরায়ু বা ডিম্বনালিতে জীবাণু সংক্রমণ হলে, জননাঙ্গে সিস্ট থাকলে, ওভারিয়ান ক্যানসার হলে, কিডনির অসুখ বা যকৃতের অসুখে, মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা মাসিককালীন অতিরিক্ত রক্তপাত হয়ে থাকে।

দর্শকের অপর এক প্রশ্নে ডা. মালিহা রশীদ কথা বলেন মায়োমা বিষয়ে। এর কারণ ও প্রতিকার নিয়ে তিনি বলেন, এটি একধরনের টিউমার। এই টিউমার সাধারণত মধ্যবয়সী নারীদেরই বেশি হয়ে। এ সমস্যার প্রথম লক্ষণ হচ্ছে অনেক বেশি ঋতুস্রাব হওয়া। অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া। চাকা চাকা রক্ত যাওয়া। এমন অবস্থায় পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। আর যদি বড় টিউমার হয়ে থাকে, তাহলে হাতে ধরলেই বোঝা যায়। তবে এটি কোথা থেকে শুরু হচ্ছে, এটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সে ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষার করাতে হয়। এ ক্ষেত্রে একটি আল্ট্রাসনো খুব জরুরি। আল্ট্রাসনোগ্রাফি থেকেই অনেক সময় নিশ্চিত হওয়া যায়। এটি বন্ধ্যত্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা এবং ঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English