সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

এমন যন্ত্রণার চেয়ে মৃত্যুই ভালো

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৩ জন নিউজটি পড়েছেন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাষণ্ড স্বামীর দেয়া আগুনে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন গৃহবধূ ইয়াছমিন আক্তার। যৌতুক না পেয়ে স্বামী রাছেল তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

২৭ ঘণ্টা চমেক হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরিয়েছেন ইয়াছমিন। তিনি বলেন, এমন যন্ত্রণার চেয়ে মৃত্যুই ভালো। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

যৌতুকলোভী রাছেলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ২৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন থাকা ইয়াছমিন বলেন, এমন যন্ত্রণা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।

নড়াচড়া করতে পারছি না। পুরো শরীর যেন শক্ত হয়ে গেছে। এমন যন্ত্রণার চেয়ে মৃত্যুই ভালো। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

বার্ন ইন্সটিটিউটের আবাসিক সার্জন চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল জানান, ইয়াছমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার কোমরের নিচের অংশসহ ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

এদিকে শনিবার আদালতে রাছেলকে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালপুরা গ্রামের সন্দ্বীপপাড়ায় রাছেলের বাড়ি।

তাকে একমাত্র আসামি করে ইয়াছমিনের বাবা হারুনুর রশিদ মামলা করেছেন।

ইয়াছমিন ও তার স্বজনরা জানান, যৌতুক দাবিসহ নানা বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ইয়াছমিনের ঝগড়া চলে আসছিল। শুক্রবার ভোরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যেতে চেয়েছিলেন ইয়াছমিন।

কিন্তু রাছেলের বাধায় যেতে পারেননি। তাকে রাছেল মারধর করে। এরপর নিজের মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল নিয়ে ইয়াছমিনের শরীরে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।

স্বামীর হাতে প্রাণভিক্ষা চাইলেও এতটুকু দয়া হয়নি ডিশ ব্যবসায়ী রাছেলের। ইয়াছমিনের বিশেষ অঙ্গেও নির্যাতন চালায় সে। পোড়া শরীর থেকে খুঁচিয়ে চামড়া তুলে নেয়ার মতো বর্বরতাও চালায়।

এরপর তার মাকে ফোন করে রাছেল বলে, ‘তোর মেয়েকে জ্বালিয়ে দিলাম। পারলে পুলিশ নিয়ে আয়। আমার কী করতে পারস দেখি।’

স্বজনরা এসে ইয়াছমিনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা হাসপাতাল ও পরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইয়াছমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হাসপাতালের বিছানায় মাকে ছটফট করতে দেখে অঝোরে কাঁদছিল তার পাঁচ বছরের একমাত্র শিশু সন্তান রাফি।

ইয়াছমিন উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকার হারুনুর রশিদের মেয়ে। আট বছর আগে পারিবারিকভাবে রাছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English