রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

ম্যালেরিয়া নির্মূলে করোনা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনাভাইরাস মহামারির এই ক্রান্তিকালে চলছে ম্যালেরিয়া সংক্রমণও। দেশের ১৩টি জেলায় দাপটের সঙ্গে রয়েছে ম্যালেরিয়া। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার জন, আর মারা গেছে সাতজন। যদিও এ অনুপাত করোনার তুলনায় কম। এ অবস্থায় ম্যালেরিয়া নির্মূলে করোনাভাইরাস মহামারি ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করতে হবে। দুই রোগের বিরুদ্ধেই করতে হবে সমন্বিত লড়াই। এর জন্য ম্যালেরিয়ার অ্যান্টিজেন টেস্টের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিজেন টেস্টও চালু করতে হবে। গতকাল শনিবার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ব্র্যাক আয়োজিত ম্যালেরিয়ায় কভিডের প্রভাব ও করণীয় বিষয়ে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন।

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের কনফারেন্স রুমে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইডাব্লিউএমজিএল পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমরা করোনাভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এর মধ্যেই ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলে যে কাজ করছে, তার সঙ্গে ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও যুক্ত আছে। মিডিয়াও এই কার্যক্রমে সহায়তা করছে। সব সময় জনস্বার্থ সুরক্ষায় নানা ধরনের সচেতনতামূলক কাজ করছে, যা সরকারের জন্য ইতিবাচক ও সহায়ক হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় পরীক্ষা আরো বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি পরীক্ষা বাড়াতে, মানুষকে আরো বেশি সচেতন করতে। যেসব সীমাবদ্ধতা আছে, তা দ্রুত সময়ের মধ্যে দূর করতে। দুই মাস আগে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি পেলেও এখন পর্যন্ত আমরা তা শুরু করতে পারিনি। কিট সংগ্রহে নানা প্রক্রিয়ার জন্য এটি দেরি হচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহ নাগাদ আশা করছি দেশে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে দেশের ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। আবার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বাইরে থেকে যাতায়াতকারী বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করছে ম্যালেরিয়া। এ দিকটায় আমাদের নজর রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আমাদের সহায়তা করছে।’

ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, ‘বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া নির্মূলে একটি কর্মকৌশল এরই মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। যখন এই কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন কভিড-১৯ ছিল না। এখন অতিমারির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলে এই কর্মকৌশল কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটাই প্রশ্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তিনটি রোগের ওপর মডেলিং করেছে। এগুলো হলো ম্যালেরিয়া, টিবি ও এইডস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই তিনটি রোগের ওপর কভিড-১৯-এর প্রভাব পড়বেই। ফলে ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মকাণ্ড চলতি বছর যতটুকু হওয়ার কথা ছিল তা থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ‘ম্যালেরিয়া ও কভিডের অ্যান্টিজেন টেস্ট একই সঙ্গে শুরু করা উচিত। ম্যালেরিয়া নির্মূলে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাজেটেরও সমস্যা রয়েছে। ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় দ্রুত শনাক্ত কাজে নানা বাধা রয়েছে। এবার যে সাতজন মারা গেছে, তাদের সময়মতো টেস্ট করে যদি শনাক্ত করা যেত, তবে এই মানুষগুলোকে হয়তো বাঁচানো যেত।’

ব্র্যাকের পরিচালক (সংক্রামক রোগ কর্মসূচি) ড. আকরামুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যালেরিয়া ও কভিড চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে আরো গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

গোলটেবিল আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহম্মেদ, একই শাখার বর্তমান উপপরিচালক ডা. জহিরুল করীম, আইসিডিডিআরবির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. রাশিদুল হক, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিক্যাল অফিসার ডা. মিয়া সেপাল, ব্র্যাকের ম্যালেরিয়া কর্মসূচির প্রধান ডা. শায়েলা ইসলাম।

গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডা. আফসানা আলমগীর।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English