সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

ইসলামে বিধর্মীদের নিরাপত্তা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

ইসলাম এমন ধর্ম নয় যেখানে বিধর্মীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। বরং অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মে তাদের নিরাপত্তার এরূপ ব্যবস্থা নেই, যেমন সুষ্ঠু ব্যবস্থা রয়েছে ইসলামে। কোনো মুসলমান যদি কোনো হিন্দু, ইহুদি, নাসারা কিংবা কোনো বৌদ্ধকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে তবে শরিয়তের হুকুম হলো- বিধর্মীর জানের বদলায় সেই মুসলমানকে হত্যা করা হবে। কোনো বিধর্মীর ইজ্জত-সম্মান, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা বাড়ি-ঘরে আঘাত হানার সুযোগ ইসলাম দেয় না। পৃথিবীর বুকে এমন কোনো ধর্ম আছে কি যে ধর্মে কোনো মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে শাস্তিস্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে? আদৌ নেই। ইসলামে আছে। কোনো মুসলমান যদি কোনো বিধর্মীকে গালি দেয় কিংবা তার সম্পদ হরণ করে তাহলে মুসলমানকে আদালতের সম্মুখীন হতে হবে; কঠিন সাজা ভোগ করতে হবে। আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুন!

তোমার প্রভু কে?
মানুষ মৃত্যুর পর কয়েকটি ঘাঁটির সম্মুখীন হবে। তার প্রথমটি কবর। প্রথম ঘাঁটিতে প্রথম প্রশ্ন করা হবে তোমার প্রভু কে? এটা দুনিয়ার স্কুল, কলেজের প্রশ্নের মতো নয় যে টাকার বিনিময়ে পাস করা যায় কিংবা পিস্তল দেখালে পরীক্ষা দেওয়া ছাড়াই নম্বর এসে যায়। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হলে বেশি বেশি নেক আমল করতে হবে। এখন প্রশ্ন হতে পারে- কবরে ‘তোমার আল্লাহ কে?’ জিজ্ঞেস না করে ‘তোমার প্রভু কে?’ জিজ্ঞেস করা হবে কেন? আল্লাহ শব্দের অর্থ হলো উপাস্য, যার ইবাদত করা হয়। যদি প্রশ্ন করা হয় তোমার আল্লাহ কে? তবে তা হবে আল্লাহর স্বার্থের প্রশ্ন, অর্থাৎ তুমি দুনিয়ায় কার ইবাদত করেছ? যার সারমর্ম এই হয় যে, তুমি আমার হক আদায় করে ইবাদত করেছ কিনা? আল্লাহ এটা জিজ্ঞেস করবেন না। বরং জিজ্ঞেস করবেন তোমার প্রভু কে? প্রভু বলা হয় যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের জানোয়ার, শিয়াল, কুকুর, সাপ, বিচ্ছু কিংবা নিকৃষ্ট প্রাণী বানাতে পারতেন। এতে আমাদের কিছু বলা বা আপত্তি করার অধিকার ছিল না। কোনো প্রকার আবেদন ছাড়াই তিনি আমাদের সৃষ্টির সেরা মানুষ বানিয়েছেন।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন সুরা হজের ৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘তুমি একসময় এমন ছিলে না। তুমি আকাশে-বাতাসে, মাটি ও পানিতে, চন্দ্র-সূর্যের আলোয় বিক্ষিপ্তভাবে ছিলে। সেখান থেকে তোমার জীব-পদার্থগুলোকে আমি সুকৌশলে মাটিতে বৃক্ষে রূপান্তরিত করেছি।’
আল্লাহতায়ালা সুরা আবাসায় ইরশাদ করেন, ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক, আমি আশ্চর্য উপায়ে পানি বর্ষণ করেছি, এরপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করেছি। এরপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙ্গুর, শাকসবজি, জয়তুন, খেজুরের ঘন উদ্যান, ফল ও ঘাস তোমাদের এবং তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।’

আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন, এসব খাদ্য আমিই উৎপাদন করেছি। এর ভিতর তোমাদের কোনো প্রকার কর্তৃত্ব নেই। আর এসব খাদ্য তোমার মাতা-পিতা খেয়েছে। তা থেকে রক্ত হয়েছে। আর রক্ত থেকে তৈরি হয়েছে বীর্য। সে বীর্য থেকে আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি। শুধু তাই নয়। বরং তুমি দুনিয়ায় আগমনের পর শক্ত কোনো কিছু খেতে পারবে না বলে তোমার জন্য তোমার মায়ের স্তনে দুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছি এবং তোমার যে সময়ে যে জিনিসের প্রয়োজন তার সুব্যবস্থা আমি করেছি। যিনি এসব নিয়ামত দান করেন তাকেই প্রভু বলে। এজন্যই কবরে প্রথম প্রশ্ন করা হবে- তোমার প্রভু কে?

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English