সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

শিশুপুত্র ইবরাহিমের প্রতিপ্রিয় নবীর ভালোবাসা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬২ জন নিউজটি পড়েছেন

ঐতিহাসিকদের বর্ণনামতে প্রিয় নবীর পুত্রসন্তান ছিল তিনজন; কাসেম (তাঁর নামানুসারে নবীজি (সা.)-এর উপনাম হয়েছিল আবুল কাসেম), তাহের (কেউ কেউ বলেছেন তাঁর নাম ছিল আবদুল্লাহ), ইবরাহিম এবং চার কন্যা—জয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতেমা (রা.)।

ইবনে কাসিরের বর্ণনা মতে, ইবরাহিম ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন খাদিজা (রা.)-এর গর্ভজাত। আর ইবরাহিম ছিলেন মারিয়া কিবতিয়া (রা.)-এর গর্ভজাত। তবে পুত্রসন্তানদের সবাই শৈশবে মারা যান। কাসেম ও আবদুল্লাহ (রা.)-র জন্ম মৃত্যুর স্থান ও তারিখ নির্ধারণে ইমামদের মতানৈক্য থাকলেও ইবরাহিম (রা.)-এর ব্যাপারে হাদিস বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তিনি অষ্টম হিজরির জিলহজ মাসে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন।

একজন বাবা হিসেবে প্রিয় নবী (সা.) নিজের ছেলে-মেয়েদের যথাযথ আদর-স্নেহ, ভালোবাসা দিয়েই লালনপালন করতেন। শত ব্যস্ততায় কখনো তিনি তাঁদের সেবাযত্নে ত্রুটি করেননি। নবিপুত্র ইবরাহিম (রা.)-এর জন্মগ্রহণের পরের ঘটনা। তিনি যখন ভূমিষ্ঠ হন তখন তাঁর সুস্থ-সবল শারীরিক গঠনের জন্য আরবের রীতি অনুযায়ী দুধমা হিসেবে আবু সাইফ নামক এক সাহাবির স্ত্রীর হাতে সোপর্দ করেন। আবু সাইফের বাড়ি মদিনার ‘আওয়ালি’তে। আর ‘আওয়ালি’ বলা হয় মদিনার আশপাশের গ্রামগুলোকে। মদিনা থেকে আওয়ালির নিকটতম গ্রামের দূরত্ব ছিল দুই মাইল এবং দূরতম গ্রামের দূরত্ব আট মাইল।

নবীজি (সা.) সন্তানদের প্রতি কত গভীর স্নেহ ও ভালোবাসা লালন করতেন এর একটা বিবরণ দিয়েছেন সাহাবি আনাস (রা.)। তিনি বলেন, ইবরাহিম মদিনার আওয়ালিতে দুধ পান করতেন। নবী করিম (সা.) সেখানে যেতেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে যেতাম। তিনি তাঁদের ঘরে প্রবেশ করতেন। ঘর থাকত ধোঁয়াচ্ছন্ন। কারণ ধাত্রীর স্বামী ছিল কর্মকার। ঘরে প্রবেশ করেই নবীজি ইবরাহিমকে কোলে নিতেন, আদর করে চুমু খেতেন। এরপর চলে আসতেন। (মুসলিম, হাদিস : ২৩১৬)

সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, তিনি তাঁকে কোলে নিয়েছেন, আদর করে চুমু খেয়েছেন এবং নাকে-মুখে লাগিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস : ১৩০৩)। তবে ইবরাহিম (রা.)-ও তাঁর ভাইদের মতো বেশি সময় দুনিয়াতে ছিলেন না। মাত্র ষোলো বা আঠারো মাস বয়সেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ইন্তেকালের সময় মহানবী (সা.)-এর হৃদয়ের ব্যাকুলতা ও অস্থিরতা কেমন ছিল, সে সময়ের একটি অবস্থা নবীজির প্রিয় সাহাবি আনাস (রা.) এভাবে তুলে ধরেন, একবার আমরা ইবরাহিমকে দেখার জন্য নবীজির সঙ্গে আবু সাইফের বাড়িতে গেলাম। ইবরাহিমের তখন প্রাণ ওষ্ঠাগত। নবীজির সামনে সে বড় বড় শ্বাস ফেলছিল। তা দেখে রাসুলের চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। তখন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনিও কাঁদছেন? তিনি বলেন, এটা হলো রহমত। এরপর আবারও তাঁর চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল এবং তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় চক্ষু অশ্রু ঝরাচ্ছে এবং হৃদয় বিগলিত হচ্ছে। তবে আমরা মুখে কেবল তা-ই বলব, যা আমাদের রব পছন্দ করেন। তোমার বিরহে আমরা বড়ই ব্যথিত হে ইবরাহিম!’ (বুখারি, হাদিস : ১৩০৩)

তাঁর ইন্তেকালে সেদিন সবাই ব্যথিত ছিলেন। যেদিন তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন সেদিন সূর্যগ্রহণও হয়েছিল, তা দেখে সবাই বলাবলি শুরু করলেন ইবরাহিমের মৃত্যুর শোকেই এই সূর্যগ্রহণ লেগেছে। নবীজি এ কথা শুনে তাদের ধারণা দূর করে বলেন, ‘কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০৪৩)

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English