সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন

পেঁয়াজের স্তূপ চট্টগ্রাম বন্দরে, ৩০০ টন নিলামে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৭ জন নিউজটি পড়েছেন

পাইকারি বাজারে দামে ব্যাপক ধস নামায় অনেক আমদানিকারক বন্দর থেকে ছাড় নিচ্ছেন না পেঁয়াজ। এ অবস্থায় বন্দরের বিশেষায়িত ইয়ার্ডে ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ জমে গেছে। নির্ধারিত সময়েও ছাড় না নেওয়ায় বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ ইয়ার্ড দখল করে থাকায় বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে ফেলে রাখা এসব পেঁয়াজ দ্রুত ছাড় করতে শিপিং এজেন্ট, আমদানিকারককে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া মেলেনি। এখন বাধ্য হয়ে নিলামে তুলেছে ৩০০ টন পেঁয়াজ। অথচ এক মাস আগেও ১০ টন পেঁয়াজ বন্দরে পৌঁছেছে- এটি জানার জন্য অধীর আগ্রহে থাকতেন আড়তদাররা। বন্দর থেকে পেঁয়াজ কত ছাড় হচ্ছে জানার জন্য অস্থির থাকতেন; কারণ সেই সংকটের সময় পেঁয়াজ আসার ওপর নির্ভরশীল ছিল বাজার। অথচ এখন উল্টো চিত্র। এক শ-দুই শ টন নয়, একসঙ্গে ১৫ হাজার টন বন্দরে পৌঁছেছে; পড়ে আছে এক মাস ধরে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে জমে আছে। বহির্নোঙরেও জাহাজে আছে প্রচুর পেঁয়াজ। যে পরিমাণ পেঁয়াজ জাহাজ থেকে নামছে; সেই পরিমাণ পেঁয়াজ বন্দর থেকে ছাড় হচ্ছে না বলেই ইয়ার্ডে জমে গেছে। এ কারণে বন্দর পরিচালনা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে এরই মধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট শিপিং লাইনকে চিঠি দিয়েছি। এতেও ভালো সাড়া না পাওয়ায় ৩০০ টন পেঁয়াজ আমরা নিলামে তুলছি।’

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর বিকল্প ১৬টি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেন দেশের ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে ৬৬ হাজার ৮০০ টন পেঁয়াজ ছাড়ের জন্য অনুমতি নিয়েছেন আমদানিকারকরা। এর মধ্যে অনেক পেঁয়াজ ছাড় হয়েছে; বাকিগুলো আটকা পড়েছে বন্দর ইয়ার্ডে। বন্দর থেকে পেঁয়াজ ছাড় না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পেঁয়াজ আমদানিকারক ও কে এম ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অসিয়র রহমান বলেন, ‘মূলত কেনা দামের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ কমে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। তাই বন্দর থেকে ছাড় নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। আবার পাকিস্তান ও মিসর থেকে আসা অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে পড়েছে। এ জন্য সেগুলোও অনেকে গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছেন না। আমার নিজেরও তিন কনটেইনার পাকিস্তানি পেঁয়াজ নষ্ট এসেছে।’

তিনি বলছেন, ‘মূলত সরকার বড় শিল্প গ্রুপগুলোকে দিয়ে বিপুল পেঁয়াজ আমদানি করে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করছে। একসঙ্গে এত বেশি পেঁয়াজ আসায় দামে ব্যাপক ধস নেমেছে।’

শিপিং লাইনগুলো বলছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে। জাহাজ থেকে নামানোর পর সেটি রাখা হয় বিশেষায়িত ইয়ার্ডে। যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল রাখতে হয়। বন্দর ইয়ার্ডে এ ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (রেফার) কনটেইনার রাখা যায় সর্বোচ্চ ২২ হাজার একক কনটেইনার। কিন্তু সেখানে পেঁয়াজই রাখা হয়েছে ১৫ হাজার টন। ফলে পেঁয়াজে ইয়ার্ড ভর্তি হয়ে গেছে। রেফার কনটেইনারে আপেল, কমলাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল এবং হিমায়িত মাছ-মাংস ইয়ার্ডে রাখা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পেঁয়াজ আমদানিতে অনুমতি ও ছাড়পত্র দেয় কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ দপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রামের উপপরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানিতে আগে অনেক বেশি সাড়া থাকলেও নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে নতুন করে ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) কেউ নিচ্ছে না। তবে ছাড়পত্র নেওয়া থেমে নেই। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৮০০ টন পেঁয়াজের বন্দর থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।’

বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আসায় খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম একেবারেই কমে গেছে। মিয়ানমার ও পাকিস্তানের পেঁয়াজ ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিসর ২৫-২৬ টাকা, চীনা ১৮-২২ টাকা, নিউজিল্যান্ড ২৩-২৪ টাকা, হল্যান্ডের পেঁয়াজ ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জ কাঁচা পণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘শুধু বেশি পেঁয়াজ আসায় দাম কমেনি। টিসিবির পেঁয়াজ ডিলারের বদলে খুচরা দোকানে হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে- এ জন্যও দামে ধস নেমেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, টিসিবির পেঁয়াজ হাট-বাজারে গেল কিভাবে? সেটা তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ বেশি দামে পেঁয়াজ এনে কম দামে বিক্রি করলে ভোক্তা খুশি হন ঠিকই—কিন্তু ব্যবসায়ীরা পথে বসেন। পরে সেই ব্যবসায়ী আর নতুন করে আমদানিতে আগ্রহী হন না। এটি সরকারের দেখা উচিত।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English