ত্রিশের ঘরে এলে কী যেন হচ্ছে ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবালের। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ শুরুর আগে থেকেই তামিমের এই ত্রিশ সমস্যার শুরু। নভেম্বরের মাঝামাঝি পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্লে অফ খেলতে গিয়েছিলেন তামিম। তিন ইনিংসের দুটিই থেমেছে ত্রিশের ঘরে।
সেই ধারা বজায় থাকল বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতেও। এখন পর্যন্ত খেলা পাঁচটি ইনিংসের তিনটিই থেমেছে ত্রিশের ঘরে। তিনটিই আবার গত তিন ম্যাচে। ওপেনার হিসেবে যা তামিমের চোখে অপরাধের মতো। বিশেষ করে বরিশালের মতো দলের ওপেনার হলে হয়তো উইকেটে থিতু হয়ে আউট হওয়া তামিমের জন্য একটু বড় অপরাধই। দলের মূল ব্যাটিং ভরসা তো সেই তামিমই।
আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে তামিম নিজেই ভুলটা স্বীকার করলেন, ‘আমার দায়িত্ব অনুযায়ী কিছুই কম নয়। এখন পর্যন্ত আমি ভালো ব্যাটিং করেছি। শেষ তিন ম্যাচে ৩০, ৩০, ৩০ করে আউট হয়ে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারি না। বিশেষ করে আমি যে দলে খেলছি, সেখানে আমার ভালো করা গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যদি ৩০ করে আউট হয়ে যাই, সেটা সহজ ভাষায় অপরাধ।’
তামিমও জানেন, ত্রিশের ঘরে আউট হওয়া ইনিংসগুলো ৫০-৬০ রানে রূপ নিলে দলের পারফরম্যান্সের চেহারা পাল্টে যেত। ইনিংস লম্বা করার আফসোস বাদ দিলে নিজের ব্যাটিং ফর্মে খুশি তামিম। স্ট্রাইক রেট থাকছে ভালো। চেনা তামিমের শটগুলোও দেখা যাচ্ছে ছোট্ট ইনিংসে। শুধু লম্বা ইনিংস খেলা বাকি, যেমনটা খেলেছেন রাজশাহীর বিপক্ষে ৭৭ রানের ইনিংসে।
তামিমের দলও যে খুব ভালো করছে, তা নয়। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টির ড্রাফট থেকেই দলটি এলোমেলো। পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র এক জয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে বরিশালের অবস্থান। পাঁচ ম্যাচ হয়ে গেল, কিন্তু এখনো ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করতে পারেনি দলটি।
বোলিং ঠিকঠাক আছে। কিন্তু ব্যাটিংয়ের এলোমেলো হালের সমাধান নেই বললেই চলে। বাকি দলগুলোর মতো বেঞ্চের শক্তি নেই বরিশালের। এমন দলকে অনুপ্রাণিত করা তো অধিনায়ক তামিমের জন্য সহজ হওয়ার কথা নয়, ‘খুব বেশি একটা ভালো না খেললে দলকে অনুপ্রাণিত করা একটু কঠিন। আমাদের দলটা মূলত তরুণদের নিয়ে গড়া। সবাই প্রতিভাবান। সবাই ভালো ক্রিকেটার। আমার তরফ থেকে আমি সব সময় তাদের সঙ্গে কথা বলি। আর মাঝেমধ্যে সবচেয়ে ভালো হয় কথার চেয়ে যদি কাজে করে দেখানো যায়। আমি কথা তো সারা দিন বলতে পারব, কিন্তু আমি নিজেও যদি একই ভুলগুলো করি, তাহলে ওই কথাগুলোর মূল্য থাকে না।’
দুর্বল দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাটা অবশ্য সামনে কাজে লাগাতে পারেন তামিম। জানুয়ারিতেই আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে লিগের তিনটি ম্যাচ আছে ক্যারিবীয়দের সঙ্গে। তামিমের অধিনায়কত্বের অভিষেক সেই সিরিজ দিয়েই হবে। কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা অধিনায়ক তামিমকে ভবিষ্যতে সাহায্যও করতে পারে, ‘সব অভিজ্ঞতাই অনুভব করা উচিত। যখন ভালো করছেন না, ওটা থেকেও শেখার থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি এখান থেকে শিখছি কি শিখছি না। আমি যদি এখান থেকে শিখি এবং এমন অবস্থা যদি সামনেও আসে এবং আমি অধিনায়ক হিসেবে যদি ভালো করি, তাহলে এই অভিজ্ঞতা অনেক ভালো হবে।’