অজু তিন প্রকার : ১. ফরজ ২. ওয়াজিব ও ৩. মুস্তাহাব।
অজু কখন ফরজ হয়?
অজু না থাকা ব্যক্তির জন্য চারটি অবস্থার যেকোনো একটির জন্য অজু ফরজ হয়।
► নামাজ আদায়ের জন্য। যদিও নফল নামাজ হোক। (বুখারি, হাদিস : ১৩২)
► জানাজার জন্য। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : ৪৩৫)
► সিজদায়ে তিলাওয়াতের জন্য। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : ৪৩৫)
► পবিত্র কোরআন শরিফ ছোঁয়ার জন্য। অনুরূপভাবে অজু ছাড়া ব্যক্তি যদি পবিত্র কোরআনের আয়াত লেখা দেয়াল, কাগজ, টাকা যেটাই ছুঁতে চাইবে তার জন্য অজু করা ফরজ। (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৭৯, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/১১৩)
অজু কখন ওয়াজিব হয়?
শুধু একটি বিষয়ের জন্য অজু করা ওয়াজিব। তা হলো কাবাঘরের তাওয়াফ করার জন্য। (তিরমিজি, হাদিস : ৮৮৩)
অজু কখন মুস্তাহাব হয়?
► পবিত্রতার সঙ্গে ঘুমানোর জন্য। (বুখারি, হাদিস : ২৩৯)
► ঘুম থেকে জাগ্রত হলে। তখন শুধু মুস্তাহাবই নয় বরং সুন্নত (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : ৫৮৫)
► সব সময় অজু অবস্থায় থাকার জন্য। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৭৩)
► সওয়াবের নিয়তে অজু থাকা অবস্থায় অজু করা।
► গিবত ও মিথ্যা কথার আশ্রয় নেওয়ার পর। (মুসলিম, হাদিস : ৩৬০)
► মন্দ ও অশ্লীল কবিতা পাঠের পর। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা : ১/১৩৫)
► নামাজ ছাড়া অন্য অবস্থায় অট্টহাসি দেওয়ার পর। (মুসনাদে আহমাদ : ৯৩০১) তবে নামাজে অট্টহাসি দিলে অজু ভেঙে যায়। (দারাকুতনি : ৬১৫)
► মৃতকে গোসল দেওয়ার পর। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : ১৫১৬)
► মৃতের লাশ ওঠানোর জন্য। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : ১৫০৩)
► প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন অজু করা। (মুসনাদে আহমাদ : ৭৫০৪, বুখারি, হাদিস : ২০৭, ফাতহুল বারি ১/৩৩৮)
► জানাবতের গোসলের (ফরজ গোসল) পূর্বে। (বুখারি, হাদিস : ২৪০)
► জুনুবি ব্যক্তি তথা গোসল ফরজ হয়েছে, এমন ব্যক্তির খাওয়া, পান করা এবং ঘুমানোর আগে। (মুসলিম, হাদিস : ৪৬১)
► রাগের সময়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪১৫২)
► কোরআন তিলাওয়াতের সময়। (মৌখিক পাঠের সময়) (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস : ৪৩৫)
► হাদিস পড়া এবং বর্ণনা করার সময়। (আদাবুল উলামা ওয়াল মুতাআল্লিমীন : ১/৬)
► শরয়ি ইলম অর্জনের সময়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭২৩)
► আজান দেওয়ার সময়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/২১১)
► ইকামত দেওয়ার সময়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/২১১)
► খুতবা দেওয়ার সময়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭২৩)
► নবী (সা.)-এর কবর জিয়ারতের সময়। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৬৪)
► ওকুফে আরাফা তথা আরাফায় থাকা অবস্থায়। (বুখারি, হাদিস : ১৪২৪, নাসায়ি, হাদিস : ২৯৬৬)
► সাফা মারওয়ার সায়ী করার সময়। (বুখারি, হাদিস : ১৫১০, সুনানে কুবরা : ৬৫০৩)