সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

আল্লাহর আনুগত্য সবার ঊর্ধ্বে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

মহান আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বিধানের আনুগত্য এবং তা মানবসমাজে বাস্তবায়নের জন্য। সুতরাং মানুষ প্রধানত আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং আল্লাহ যাদের আনুগত্য করার অনুমতি দিয়েছেন সীমা মেনে তাদের আনুগত্য করবে।

যেসব মানুষের আনুগত্য করা যায়

পৃথিবীতে আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের অধীনে আরো কিছু মানুষের আনুগত্য করার অনুমতি, ক্ষেত্রবিশেষে নির্দেশও রয়েছে। তাঁরা হলেন,

মা-বাবার আনুগত্য : সন্তানের ওপর তার মা-বাবার আনুগত্য করা ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত কোরো না, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, মা-বাবার কোনো একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের উফ পর্যন্ত বোলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না; বরং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

তবে তাঁরা যদি আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেন তা মান্য করা যাবে না। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি মানুষকে আদেশ দিয়েছি তারা যেন মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে। তারা যদি আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করার জন্য তোমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই। তবে সে ব্যাপারে তাদের কথা মানবে না।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ৮)

স্বামীর আনুগত্য : যৌক্তিক ও শরিয়ত অনুমোদিত বিষয়ে স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর আনুগত্য আবশ্যক। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো স্ত্রী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানে রোজা রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে সে ইচ্ছামতো জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৪১৬৩)

বৈধ শাসকের আনুগত্য : শাসকের আনুগত্যের ব্যাপারে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, তাঁর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা শাসক আছে তাদেরও।…’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৯)

আল্লাহর আনুগত্য সবার ঊর্ধ্বে

ব্যক্তিবিশেষের প্রতি আনুগত্যের অনুমতি ও নির্দেশ থাকলেও আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে কোনো মানুষের আনুগত্য করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পাপ কাজের আদেশ না করা পর্যন্ত ইমামের (নেতা) কথা শোনা ও তার আদেশ মানা অপরিহার্য। তবে পাপ কাজের আদেশ করা হলে তা শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯৯৫)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) একটি ক্ষুদ্র সৈন্যদল পাঠালেন এবং একজন আনসারি সাহাবিকে তাদের আমির নিযুক্ত করে সেনাবাহিনীকে তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দিলেন। এরপর আমির তাদের ওপর রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, রাসুল (সা.) কি তোমাদের আমার আনুগত্য করার নির্দেশ দেননি? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের দৃঢ়ভাবে বলছি যে তোমরা কাঠ জড়ো করো এবং তাতে আগুন জ্বালাও। এরপর তোমরা তাতে প্রবেশ করবে। তারা কাঠ জড়ো করল এবং তাতে আগুন জ্বালাল। এরপর যখন প্রবেশ করতে ইচ্ছা করল, তখন একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগল। তাদের কেউ কেউ বলল, আগুন থেকে পরিত্রাণের জন্যই তো আমরা রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করেছি। তাহলে কি আমরা (সব শেষে) আগুনেই প্রবেশ করব? তাদের এসব কথোপকথনের মাঝে হঠাৎ আগুন নিভে যায়। আর তাঁর (আমিরের) ক্রোধও দমিত হয়ে যায়। এ ঘটনা রাসুল (সা.)-এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, যদি তারা তাতে প্রবেশ করত, তাহলে কোনোদিন আর এ থেকে বের হতো না। জেনে রেখো! আনুগত্য কেবল বৈধ কাজেই হয়ে থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৪৫)

আল্লাহ সবাইকে তাঁর যথাযথ আনুগত্য করার তাওফিক দিন। আমিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English