যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) পরামর্শক সভায় ফাইজারের তৈরি করোনা টিকাকে অনুমোদন দেওয়ার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় এ সুপারিশ করা হয়। এই টিকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনটি আগামীকাল ১২ ডিসেম্বর শনিবার হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ফাইজারের তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকাকে জরুরি অনুমোদন দিতে পরামর্শকেরা সুপারিশ করায় এর অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টিকা বিশেষজ্ঞদের দেওয়া সুপারিশের পর এই টিকার অনুমোদনের বিষয়টি পুরোপুরি এফডিএর এখতিয়ারে প্রবেশ করেছে। সাধারণত এই ধাপটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য হয়। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা টিকার গবেষণা ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সব তথ্যকে এই পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হয়। কিন্তু এবার এ ধাপটি এত দীর্ঘ হবে না। বরং আগামীকালই সংস্থাটি এই টিকার জরুরি অনুমোদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরামর্শক সভার সুপারিশের পর এত কম সময় লাগার বড় কারণ পূর্ব প্রস্তুতি। অন্য যেকোনো সময়ের টিকা নিয়ে করা গবেষণার চেয়ে এবারেরটি আলাদা। এবার বিশ্বের সব অঞ্চলের গবেষকেরা একযোগে এই টিকা তৈরির পেছনে নিজেদের নিযুক্ত করেছেন। যেসব প্রতিষ্ঠানের টিকা আশা জাগিয়েছে, সবগুলোর গবেষণা ও পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর্যায়ের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নজর রেখেছে। একদিকে গবেষণা এগিয়েছে, তার সঙ্গে এগিয়েছে এর পর্যালোচনাও। ফলে ফাইজারের টিকার সাফল্যের খবর প্রচারের পর তার নিরীক্ষার প্রাথমিক কাজগুলো এফডিএসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আগেই করে রেখেছে। উৎপাদন ও সরবরাহের যাবতীয় ব্যবস্থা বলা যায় টিকা তৈরিরও বহু আগে থেকে প্রস্তুত। ফলে জরুরি অনুমোদন দ্রুত দেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন সংকটে পড়তে হচ্ছে না এফডিএকে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের বাইরে অনুমোদন পাওয়া কোনো টিকা হিসেবে ফাইজারের টিকা কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োগ করা শুরু হবে। প্রথমেই টিকাটি পাবেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এ বিষয়ে মার্কিন হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস সেক্রেটারি অ্যালেক্স আজার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আগামী সোম-মঙ্গলবার নাগাদ আমরা মানুষকে টিকা দিতে পারব।’
যুক্তরাষ্ট্রে এই সময়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন এক বড় আশার জন্ম দিতে পারে। কারণ, দেশটির কোভিড পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। ১০ ডিসেম্বর টিকাটি অনুমোদনের সুপারিশ আসার আগের দিন ৯ ডিসেম্বর ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বাজে দিন। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ রোগে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত এক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হওয়া ও এতে মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা চলছে। এ অবস্থায় টিকার অনুমোদনের সুপারিশ ও দ্রুততম সময়ে এর সরবরাহের খবর নিশ্চিতভাবেই আশাবাদী করে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার প্রাপ্যতা এই বিরাট সংকটের একটি অংশের মাত্র সমাধান করে। এই টিকা এখনো পুরো জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে বাকি। এতে অনেক সময় লাগবে। উপরন্তু মোট জনগোষ্ঠীর ৭৫-৮০ শতাংশ টিকা না নিলে এটি কার্যকর হবে না। ফলে টিকার পাশাপাশি এত দিন ধরে পালন করে আসা স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিগুলো মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা।
টিকার বিতরণের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, অনুমোদনের পরপরই সরবরাহের জন্য ২৯ লাখ ডোজ টিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিতরণের জন্য পাঠানো হবে। ঠিক সমপরিমাণ ডোজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে প্রথম ডোজ গ্রহণকারীরা প্রায় তিন সপ্তাহ পর তাদের দ্বিতীয় ডোজটি নিতে পারেন। পুরো বিষয়টির সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।