মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন

সরকারিভাবে ধান ও চাল বিক্রিতে অনাগ্রহ কৃষক ও কল মালিকদের

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে রোপা আমন মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান ও চাল বিক্রিতে অনাগ্রহ কৃষক ও চাল কল মালিকদের। এতে রোপা আমন মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান ও চাল ক্রয়ের লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রাপ্ত ৫০টি চাল কল রয়েছে। গত ৭ নভেম্বর থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু এবছর সরকারি ভাবে ধান ও চাল বিক্রি করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে কৃষক ও চাল কল মালিকরা।

কৃষকরা জানান, সরকার প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা বেধে দিয়েছে। তারা খোলা বাজারেই ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা প্রতি মণে ধান বিক্রি করছেন। তাই কৃষকরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই সরকার কর্তৃক বেধে দেয়া দামের চাইতে অধিক মূল্যে খোলা বাজারে ধান বিক্রি করছে।

অপরদিকে, উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ মনোয়ার জানান, খাদ্য অধিদপ্তর গত বোরো মৌসুমে প্রণোদনা দেয়ার আশ্বাস দেওয়ায় প্রতি কেজি চালে ৫/৭ টাকা লোকসান দিয়ে আমরা চাল কল মালিকরা সরকারি ভাবে ধান দেয়ার চুক্তি করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা কোনো প্রণোদনা পাইনি। বর্তমানে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা মণে ধান কিনতে হচ্ছে চাল কল মালিকদের। এতে প্রতি কেজি চাল পড়ছে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায়। প্রতি কেজি এক টাকা বাড়িয়ে ৩৭ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। এতে চাল কল মালিকদের প্রতি কেজিতে ৭ থেকে ৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। আর কৃষকের ধানের দাম বেধে দেয়া হয়েছে ২৬ টাকা কেজি। এতে প্রতি কেজি চাল পড়ছে ৪১ টাকা। ধান ও চালের দাম সমন্বয় না হলে আমরা এবার কোন চাল কল মালিক রোপা আমন মৌসুমে সরকারি ভাবে চাল দিতে চুক্তি করবো না।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডালিম কাজী জানান, চাল কল মালিকরা যদি চাল না দেয় তাহলে সরকার প্রয়োজনে বিদেশ থেকে হলেও চাল আমদানি করে দেশে চালের চাহিদা পূরণ করবে। চাল কল মালিকরা যদি সরকারি ভাবে চাল দিতে চুক্তি না করে তাহলে খাদ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রণোদনার ব্যাপারে তিনি জানান, যদিও প্রণোদনার দেওয়ার বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারপরও চাল কল মালিকদের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে, কোনো চাল কল মালিক যদি বোরো মৌসুমে সরকারকে চাল দিয়ে থাকে তাহলে সেই চাল কল মালিক আমন মৌসুমে বোরো মৌসুমের ২০ ভাগ চাল বেশি দিতে পারবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষামাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে ৩৫ ভাগ ধান কর্তন করা হয়েছে। বাকি ধান অল্প সময়ের মধ্যে কর্তন করা হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English