শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

শাজাহানপুর থেকে বিলুপ্তপ্রায় গন্ধগোকুল উদ্ধার

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৯ জন নিউজটি পড়েছেন

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ক্যান্টনমেন্ট সি-ব্লক এলাকায় বাসা বেঁধেছিল পূর্ণবয়স্ক একটি গন্ধগোকুল। কে বা কারা গন্ধগোকুলটি ধরে তা বেঁধে রেখেছিল বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে। খবর পেয়ে বগুড়া বার্ড ক্লাবের সভাপতি ও বন্য প্রাণী আলোকচিত্রী তৌহিদ পারভেজের সহযোগিতায় গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করেছে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন বিবিসিএফ।

আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিবিসিএফের বন্য প্রাণী বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (তীর) সদস্য কামরুজ্জামান শাজাহানপুর উপজেলার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করেন।

বগুড়া বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বন্য প্রাণী আলোকচিত্রী তৌহিদ পারভেজ বলেন, ক্যান্টনমেন্টের সি-ব্লক এলাকার একজন ফোন করে বলেন, একটি পূর্ণবয়স্ক গন্ধগোকুল ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা বিবিসিএফের মিজানুর রহমানকে পাঠানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটি উদ্ধার করে বগুড়ায় নিয়ে আসেন।

বর্তমানে গন্ধগোকুলটি বিবিসিএফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সুস্থ হলে তা কাছের জঙ্গলে উন্মুক্ত করা হবে।
মিজানুর রহমান, বন্য প্রাণী বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের (বিবিসিএফ)
বিবিসিএফের বন্য প্রাণী বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে গন্ধগোকুলটি বিবিসিএফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সুস্থ হলে তা কাছের জঙ্গলে উন্মুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সভাপতি এস এম ইকবাল বলেন, একসময় গন্ধগোকুল প্রচুর পাওয়া গেলেও বর্তমানে মানুষের অসচেতনতায় প্রাণীটি তেমন চোখে পড়ে না। গন্ধগোকুল শত্রু দেখলে একধরনের কাঁদানে গ্যাস স্প্রে করে, সেটি প্রাণীটির আত্মরক্ষার হাতিয়ার। এরা দেখতে পোষা বিড়ালের মতোই অনেকটা—খাটো পা, লম্বা লেজ ও শরীর বাদামি রঙের। প্রাণীটির লেজে আছে সাতটি চওড়া কালো বলয়, গলার নিচে দুটি কালো চওড়া টান, পিঠের ওপর থেকে মেরুদণ্ড বরাবর রয়েছে মোট ছয়টি লম্বা বাদামি রেখা। নিরীহ স্বভাবের এই প্রাণীকে নানা এলাকায় গন্ধগোকুল, ছোট বাগডাশ, ছোট খাটাশ, গন্ধগুলা, হাইলটালা ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। শরীরের মাপ লেজসহ ৯০ সেন্টিমিটার। ঘাড় থেকে উচ্চতা ২২ সেন্টিমিটার। ওজন ২-৩ কেজি। এদের আয়ুষ্কাল প্রায় ১৫ বছর।

পাশাপাশি বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী গন্ধগোকুলকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এস এম ইকবাল বলেন, গন্ধগোকুল ঝোপঝাড়, বাগান ও ঘরবাড়ির ছাদে বাসা বাঁধে। এরা ধানখেতের ইঁদুর, গেছো ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, পাখি ও পাখির ডিম, ব্যাঙ-শামুক, সুযোগ পেলে গেরস্তদের হাঁস-মুরগি-ছাগলছানা ও ফল খায়। তাল-খেজুরের রস এদের প্রিয় পানীয়। বছরে কমপক্ষে দুইবার ছানা দেয় এরা।

গন্ধগোকুল দেশের একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। ২০০৮ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) প্রাণীটিকে বিপন্ন (লাল তালিকাভুক্ত) ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী প্রজাতিটি সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English