চীন থেকে শেষ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে রাজি হয়েছে ব্রাজিল সরকার। দেশটির একটি রাজ্যের গভর্নর গতকাল বুধবার বলেছেন, তাঁর দেশ চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের তৈরি টিকা করোনাভ্যাকের ৪ কোটি ৬০ লাখ ডোজ কিনবে। খবর রয়টার্সের।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, টিকা নিয়ে নিষ্ক্রিয়তায় তোপের মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। টিকা কিনতে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তাঁর ব্যাপারে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সমালোচকেরাও বলেন, দেশটিতে করোনায় মৃত্যু যখন আবার বাড়তে শুরু করেছে, তখন সুসংহত টিকা কর্মসূচি গ্রহণে তাঁর ব্যর্থতা ‘আত্মহত্যামূলক অবহেলা’র শামিল।
গত অক্টোবরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাজুয়েল্লো বলেছিলেন, সরকার চীনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি ডোজ টিকা কেনার পরিকল্পনা করেছে। তবে তাঁর এ বক্তব্যের অল্প পরই প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভুল করেছেন।
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পিয়াউই রাজ্যের গভর্নর ওয়েলিংটন ডায়াস বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এডওয়ার্ড পাজুয়েল্লো তাঁকে জানিয়েছেন, ফেডারেল সরকার অন্যান্য দেশের পাশাপাশি চীন থেকেও করোনার টিকা কেনার পরিকল্পনা করেছে। তিনি সাংবাদিকদের টিকার উৎপাদন ও সরবরাহসংক্রান্ত চুক্তির একটি কপি এক বৈঠকে দেখার কথা জানান। এই টিকার ৯০ লাখ ডোজ আগামী ২৫ জানুয়ারি হাতে পাওয়া যাবে।
ইতিমধ্যে ব্রাজিলের ইনস্টিটিউট বুটানটান এক বিবৃতিতে বলেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়ে ওই টিকা সরবরাহের জন্য গতকাল একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তারা।
এ মন্তব্যের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। গত অক্টোবরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাজুয়েল্লো বলেছিলেন, সরকার চীনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি ডোজ টিকা কেনার পরিকল্পনা করেছে। তবে তাঁর এ বক্তব্যের অল্প পরই প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভুল করেছেন।
লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলে করোনায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তবে বলসোনারো করোনার ভয়াবহতাকে বরাবরই খাটো করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, করোনা মহামারি ‘একটি ছোটখাটো ফ্লু’।
গতকাল গভর্নরের ওই বক্তব্য দেওয়ার আগে সমালোচকেরা বলছিলেন, ব্রাজিলে এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। সামনে পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করার সম্ভাবনা থাকলেও টিকা নিয়ে নিজের অবস্থান বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলছে না সরকার। ২১ কোটির বেশি মানুষের দেশটিতে টিকার বিষয়ে সরকার তার সব মনোযোগ অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকার দিকে নিবদ্ধ করে রেখেছে। আবার বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ ব্রাজিল এখনো ফাইজারের টিকা পেতে চুক্তি করেনি। চীনের পরীক্ষামূলক টিকা করোনাভ্যাকের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলসোনারো সরকার। অনেকেরই তাই সন্দেহ, তাঁর এই নিষ্ক্রিয়তার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলে করোনায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তবে বলসোনারো করোনার ভয়াবহতাকে বরাবরই খাটো করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, করোনা মহামারি ‘একটি ছোটখাটো ফ্লু’।
সমালোচকেরা আরও বলেছিলেন, ব্রাজিলের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বলসোনারোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সাওপাওলোর ডানপন্থী গভর্নর জোয়াও ডোরিয়া চীনা টিকা কিনতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ডোরিয়াকে কোনো সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ না দিতেই চীনের টিকার প্রতি অবহেলা দেখাচ্ছেন বলসোনারো।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বলসোনারোর এমন কৌশলে টিকা পেতে বিলম্ব হলে ব্রাজিলে নেহাতই আরও মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। দেশটির বিজ্ঞান ও গবেষণাবিষয়ক সংগঠন ‘কোশ্চেন অব সায়েন্স ইনস্টিটিউট’-এর প্রতিষ্ঠাতা নাটালিয়া প্যাস্টারনাক বলেছেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় আস্থা রাখার যুক্তি রয়েছে। সমস্যা হলো, শুধু অ্যাস্ট্রাজেনেকার দিকে তাকিয়ে থাকা ও অন্যদের সঙ্গে চুক্তি না করা। কেননা, অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে সরকার যদি ১০ কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার চুক্তিও করে, তবু তা পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য যথেষ্ট হবে না।