মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন

পাটকল-চিনিকল বন্ধ নয় আধুনিকায়নের দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৩ জন নিউজটি পড়েছেন

রাষ্ট্রীয় পাটকল ও চিনিকল বন্ধ না করে আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট্র। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুলের পরিচালনায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ দাবি জানান হয়েছে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাঈম খান বিপ্লব, সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সদস্য রতন মিয়া প্রমুখ। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় চিনিকলসমূহ বন্ধ নয়, চিনিশিল্পের আধুনিকায়ন করা, পাটকল-চিনিকলসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিরাষ্ট্রীয়করণ, লুটপাট দুর্নীতি বন্ধ এবং ৬টি চিনিকলে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।

ফ্রন্ট নেতারা বলেন, সরকার একের পর এক দেশের কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্পগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পাটকলের পর এবার বন্ধের ফরমান জারি করা হলো রাষ্ট্রীয় চিনিকলের ওপর। এর জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রথমে এগুলোকে দুর্বল করা হয়েছে। লোকসানের দায় যথারীতি চাপানো হয়েছে চিনিকল শ্রমিক এবং আখচাষির ওপর। আর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) লোকসানের বোঝা কমাতে প্রাথমিকভাবে ছয়টি চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বিএসএফআইসি’র পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে চিনিকলগুলোতে গত পাঁচ বছরে ৩ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ওই ছয়টি চিনিকলে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে আখমাড়াই বন্ধ থাকবে। এর জন্য পুরোনো বক্তব্যই নতুন করে দিতে শুরু করেছে যে, বিদেশি বিনিয়োগে জরাজীর্ণ কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করে চিনির পাশাপাশি স্পিরিট, অ্যালকোহলসহ অন্যান্য উপজাত পণ্য উৎপাদনের স্বার্থে চিনিকলগুলো বন্ধ করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ৩ ডিসেম্বর থেকে যে ৬টি চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে তা হলো কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড়, শ্যামপুর (রংপুর), রংপুর ও সেতাবগঞ্জ (দিনাজপুর) চিনিকল। এর ফলে চিনিকলগুলোতে কর্মরত ২ হাজার ৮৮৪ জন শ্রমিক কর্মচারী কাজ হারিয়ে বেকার হবে। সরকার নাগরিকদের জন্য নতুন কাজের সংস্থান না করে করোনাকালে শ্রমিক বেকার করার অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ও বিএসএফআইসি লোকসানের যে দায় শ্রমিক ও আখচাষির ওপর দিচ্ছে এটা চরম একটা মিথ্যাচার। বাস্তবে এর সম্পূর্ণ দায় সরকার ও বিএসএফআইসি’র দুর্নীতি, ভুলনীতি, লাটপাট আর রাষ্ট্রীয় সম্পদ গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়ার নীতি। এখানে শ্রমিকও আখ চাষিদের বলিরপাঠা বানানো হচ্ছে। শ্রমিকরা এই মিথ্যা ও জালিয়াতিপূর্ণ বক্তব্য কোনভাবেই মেনে নিবে না।

সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত সকল প্রতিষ্ঠান যা জনগণের সম্পদ এই সম্পদ মুষ্টিমেয় লুটেরা ধনিকদের হাতে তুলে দিতে চায়। তাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে আখচাষি, চিনিকল-পাটকল শ্রমিকসহ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলে চিনিকল, পাটকলসহ সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান ফ্রন্টের নেতারা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English