রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

ঈমান সবলকরণের পথ ও পাথেয়

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৭ জন নিউজটি পড়েছেন

কুরআন-হাদিসের সুস্পষ্ট বিবরণ অনুযায়ী পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া ব্যতিরেকে সর্বাগ্রে ও প্রথম দফায় জান্নাতে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হবে। তাই প্রতিটি মুমিনের জন্য আবশ্যক, নিজের ঈমানকে বলীয়ান করে পরপারে যাত্রার পথে অগ্রসর হওয়া।
তবে শুধু ঈমানকে শক্তিশালী করে বসে থাকা মোটেও নিরাপদ নয়। বরং যেকোনো সময়, যে কারো ঈমান হঠাৎ এক ঝটকায় চরম পর্যায়ের দুর্বল ও হীনবল হয়ে যাওয়াটা আশ্চর্যের কিছু নয়।

কারণ শয়তানের অব্যাহত মিশন থেকে আড়ালে থাকা কিংবা পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া বড়ই দুরূহ ব্যাপার। যেহেতু ঈমানের আবাসস্থল হলো মুমিনের হৃদয়, তাই ইবলিসের টার্গেট এবং ঈমান বিধ্বংসী তীরও সর্বদাই তাক করা থাকে মুমিনের অন্তর বরাবর।
ফলে অন্তরাত্মা রুগ্ণ হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে ঈমানী জজবা। এককথায় তখন পুরোপুরিভাবে দুর্বলতায় কাতর হয়ে পড়ে ঈমান নামক মহারতœটি।
যেমনভাবে মানব দেহে রোগব্যাধি বাসা বাঁধলে মানুষ শক্তি হারিয়ে ফেলতে শুরু করে, ঠিক তেমনিভাবে হৃদয় রোগাক্রান্ত হলে ঈমানও দুর্বলতায় ভুগতে শুরু করে। শারীরিক রোগের চিকিৎসা গ্রহণ না করলে যেমন সুস্থ-সবল হয়ে ওঠা যায় না, অনুরূপভাবে আধ্যাত্মিক রোগও চিকিৎসা বিনে সহসাই সেরে ওঠে না।

তাই এ পর্যায়ে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে জানা দরকার, আত্মার রোগ কী কী? এবং সেগুলোর প্রতিকারের উপায় কী?
রুহানি জগতের সাধক ও চিকিৎসকরা বলেন, আত্মার ছয়টি মারাত্মক রোগ এমন আছে যেগুলোর যথাযথ প্রতিকারের ব্যবস্থা না নিলে পরকালীন জীবনের চিরস্থায়ী ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হওয়া ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।
উক্ত ব্যাধিগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকা হলো :
অহঙ্কার- যার ফলে মানুষ অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, দুর্ব্যবহার করে থাকে।
হিংসা- যার ফলে মানুষ অন্যের সুখের বস্তু বিলুপ্ত হওয়ার কামনা করে থাকে।

পরনিন্দা- যা কাউকে সতর্ক কিংবা সংশোধন অথবা কারো অনিষ্ট থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা করার স্বদিচ্ছা ব্যতীত মানুষ অযথাই করে থাকে। মিথ্যাÑ বিধিসম্মত কোনো কারণ ছাড়া মানুষ যার আশ্রয় নিয়ে থাকে।
লোক দেখানো পুণ্য- যা মানুষ কাউকে শেখানো ইত্যাদির নিয়ত ছাড়া প্রচার করে থাকে।
দুনিয়ার ভালোবাসা- যেথায় মানুষ ক্ষমতা কিংবা অর্থ বা নারী উপভোগের মোহে পড়ে লিপ্ত হয়ে থাকে।

এই ছয়টি রোগের দু’টি চিকিৎসা রয়েছে। একটি প্রাথমিক, অপরটি চূড়ান্ত।
যাবতীয় অন্তরের রোগের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা হলো, সর্বদা অন্তরে এই কথার জপ করতে থাকা যে, আল্লাহ আমাকে দেখছেন, আল্লাহ আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
যার অন্তরে হরহামেশাই ‘আল্লাহ আমাকে দেখছেন’ কথাটা বদ্ধমূল হয়ে যাবে, তার পক্ষে আর কখনো কোনো পাপাচারের সাহস হবে না। কিংবা পুণ্যের কাজে অবহেলা প্রদর্শিত হবে না। সর্বদা এই ধ্যান করার দ্বারাই যদি উক্ত রোগগুলো থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়, তাহলে তো রব্বে কারিমের প্রতি অসংখ্যা কৃতজ্ঞতা।
কিন্তু যদি এইটুকু চিকিৎসাতে রোগ না সারে, তাহলে দ্বিতীয় দফায় শেষ ও চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর তা হলো, দ্বীনের জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের কাছে গিয়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। অন্তরের রোগব্যাধি থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিতে হবে।
এতে সম্ভব, স্বীয় ঈমানকে সবল ও পরিপূর্ণ রেখে কাল হাশরের মাঠে বিদ্যুৎ গতিতে পোলসিরাত পার হয়ে প্রথম দফায় বেহেশতে প্রবেশের সুযোগ লাভে ধন্য হওয়া।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ আত্মশুদ্ধি অর্জনকরত বিনা প্রতিবন্ধকতায় বেহেশতে যাওয়ার সৌভাগ্য দান করুক। আমিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English