সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

চলতি বছর ১৮ হাজার নারী ও শিশু সংক্রান্ত মামলা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৮ জন নিউজটি পড়েছেন

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক মহামারির কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা প্রতিমাসে ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েছে বিশ্বব্যাপী।

আজ সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় নারী, শিশু ও অন্যান্য নির্যাতন বন্ধে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে শুধুমাত্র নারী ও শিশু সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা আনুমানিক ১৮ হাজার ২২১টি।

নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ১১ সুপারিশ-

১. ধর্ষণের মুখোমুখি নারী ও শিশুদের জন্য সার্বিক আইনি সহযোগিতার ব্যবস্থা এমনভাবে যেখানে তাদেরকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সুরক্ষা বলয় নিশ্চিত করা। যাতে থাকবে— মনো সামাজিক সেবা, নারী ও শিশু বান্ধব আইন সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় (প্রয়োজনে), নারী ও শিশু বান্ধব পরিবেশ।

২. দ্রুত বিচার এবং সাক্ষী সুরক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেসগুলোর যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করা।

৩. তদন্তকার্য রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সকল স্তরে প্রশিক্ষিত কর্মী থাকতে হবে।

৪. উচ্চ আলাদতে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত সকল মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য পৃথক কোর্ট প্রয়োজন।

৫. মানব পাচার সংক্রান্ত মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে।

৬. প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের সামগ্রিক তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।

৭. প্রান্তিক গোষ্ঠীর (প্রতিবন্ধী, হিজড়া) জন্য বৈষম্যহীন আইনি পরিষেবা নিশ্চিত করুন।

৮. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শ্রম পরিদর্শক এবং অভিবাসন কর্মকর্তাসহ কর্মকর্তাদের পাচারের মামলার শনাক্তকরণ এবং পরিষেবাগুলোতে ভুক্তভোগী রেফারেলসহ প্রশিক্ষণ বাড়ানো।

৯. বাসে স্টেশনে সকল কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে মহামান্য হাইকোর্ট যে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ রিট পিটিশন নং-৫৯১৬/২০০৮ এর যে দিক নির্দেশনা দিয়েছে সে অনুযায়ী সকল কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্জকর কমিটি গঠন করতে হবে।

১০. নারী-শিশু নিযাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত ২০২০ এ সকল ধরনের ধর্ষণকে আইনের আওতাভুক্ত করার জন্য ‘পেনিট্রেশন’র একটি সংজ্ঞা যুক্ত করতে হবে।

১১. সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারা এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার বিচারে অভিযোগকারীর চরিত্রগত সাক্ষ্যের গ্রাহ্যতা বন্ধ করতে হবে। এরূপ সংস্কারের মাধ্যমে বিচারকরা যাতে নিশ্চিত করতে পারেন যে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরার সময় অভিযোগকারীকে কোনো অবমাননাকর বা অবজ্ঞামূলক প্রশ্ন করা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার যারা, তাদেরকে প্রতিবাদ করতে হবে। ভুক্তভোগী দোষী নয়। বেশিরভাগ জায়গায় ভিকটিমরা কথা বলতে চায় না। তারা পরিবার থেকেও সহযোগিতা পায় না। কেস করতেও উৎসাহ পায় না। বাল্যবিবাহ, সাইবার ক্রাইম। এ ছাড়া, আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত নারীদের সহযোগিতা করছি।’

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভিন বলেন, ‘আমরা এমন সমাজে বাস করি যেখানে নারীদের দমিত করে রাখা হয়। আইন-আদালত সব ক্ষেত্রেই নারীরা বঞ্চনার শিকার। সমাজের পুরুষ মানুষেরও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন দরকার। তাহলে পরিবর্তন সম্ভব।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English