সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

করোনা সংক্রমণ ২ কোটি ছোঁয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ গতকাল রোববার ১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহের কম সময়েই দেশটিতে সংক্রমিত হয় ১০ লাখ মানুষ। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে করোনার হালনাগাদ তথ্য সার্বক্ষণিক প্রকাশ করে চলা ওয়ার্ল্ডোমিটারস ডট ইনফো জানিয়েছে, ওই দিন সারা বিশ্বে করোনা মহামারিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মোট সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ১১ লাখ ৪২ হাজারের কিছু বেশি। সংক্রমণের তালিকায় আগের মতোই শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আছে ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।

বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার সকাল নয়টায় জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল রাত সাড়ে আটটায় দেশটিতে বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ জন। এ নিয়ে মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা ১ কোটি ৯১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৫টি।

সংক্রমণ ১ কোটি ৮০ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার মাত্র ছয় দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লাখ পেরিয়ে গেছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের কম সময়ে সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি লোক।

বিশ্বে শীর্ষ ক্ষমতাশালী ও অন্যতম ধনী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রে এই মহামারিতে এরই মধ্যে মারাও গেছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯ জন। সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুই ক্ষেত্রেই দেশটির ধারেকাছে নেই কেউ।

করোনার টিকা সংগ্রহ ও তা দেওয়া নিয়ে তোড়জোড় চলার মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। গত নভেম্বর থেকে দেশটিতে প্রতি সপ্তাহে সংক্রমণের তালিকায় অন্তত ১০ লাখ ঘটনা যুক্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও মৃত্যুর সংখ্যা। গত শনিবার দেশটিতে কোভিডে মারা গেছেন এক হাজার জন।

পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে মার্কিন সরকারের শীর্ষ বিজ্ঞানী অ্যান্থনি ফাউসি গতকাল সকালে সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ মহামারির চূড়ান্ত রূপ এখনো আমাদের সামনে না এসে থাকতে পারে।’

নিউইয়র্কে করোনা পরিস্থিতি নাজুক হচ্ছে
করোনায় নিউইয়র্কে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন বেড়ে চলছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এ অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু কুমো বলেছেন, সামনের মাসগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

গতকাল নিউইয়র্কে ৭ হাজার ৬২৩ জন নতুন সংক্রমিত ব্যক্তি বলে শনাক্ত হয়। এর মধ্যে শুধু নগরকেন্দ্রে ২ হাজার ৮৪২ জন সংক্রমিত হয়েছেন।

এ রাজ্যে সংক্রমণের হার এখন ৫ দশমিক ৩৬ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৮৫–তে দাঁড়িয়েছে। ২৯৯ থেকে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৭ হাজার ১৮৩–এর কথা গতকালের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা রোগী ৫৮ জন থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে হাসপাতাল থেকে ৪২৭ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে নিউইয়র্কে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা গড়ে ১০০ জনের বেশি। গতকাল ১১৫ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়।

গভর্নর কুমো বলেছেন, করোনার টিকা দ্রুত বিতরণ ও সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জাঁতাকলে পড়েছে নিউইয়র্ক। তিনি বলেন, ফেলে আসা বছরটি ছিল খুবই নাজুক। টিকাদান কেন্দ্রের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে সক্রিয় ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।

মার্চ থেকে ছড়িয়ে পরা করোনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পুরো দেশে ৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে নিউইয়র্কে। তিন শতাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে শুধু নিউইয়র্কে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশির মৃত্যু ৪৩০ ছাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের পর ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডা রাজ্যের প্রতিটিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, সামনের মাসগুলোয় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠবে। প্রতিটি রাজ্যে দ্রুত টিকা সরবরাহ করা হচ্ছে। ৮০ শতাংশ লোক ভ্যাকসিন নিলে কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৬ হাজার ২১৭ জন এবং মারা গেছেন ৪০০ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩৪ ও ১ লাখ ২২ হাজার ৪২৬।

চীনে গতকাল সংক্রমণের নতুন ২১টি ঘটনা ধরা পড়ে বলে জানিয়েছে সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ১৫টি ঘটনা ঘটে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের মাধ্যমে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ৮৬ হাজার ৯৭৬ ও ৪ হাজার ৬৩৪।
দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের অস্তিত্ব তাদের দেশেও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি লন্ডন থেকে আসা তিন ব্যক্তির মধ্যে এই ধরনটি শনাক্ত হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English