নির্যাতনের পর হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেফতার রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কনস্টেবল আবু তায়েফ মোহাম্মদ হাসানকে ৪ দিনের রিমান্ড এবং তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় এই আদেশ দেন রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাজহাটের বিচারক আল মেহবুব।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোর্ট ইনস্পেক্টর নাজমুল কাদের জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় রংপুর তাজহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে পুলিশ কনস্টেবল আবু তায়েফ হাসান ও তার স্ত্রী ছুফিয়া বেগম সাথিকে হাজির করা হলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উভয়ের ৫ দিনের করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন সেই আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার এই আদেশ দেয়া হলো।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে হাসানের মালিকানাধীন রিকশা চালাতেন নাজমুল ইসলাম। চুরি হওয়ার পর সেটি চুরির দায় নাজমুলের ওপর চাপায় হাসান। গত ২২ ডিসেম্বর রাতভর তাকে দুই দফায় হাসান, তার স্ত্রী ছুফিয়া এবং দালাল কাদের তার ওপর হাতুড়ি, প্লাস ও কাচি এবং রড দিয়ে নির্যাতন চালায়। এতে নাজমুল মারা গেলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসান নিজ ঘরের ফ্যানের সাথে নাজমুলকে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার বিষয়ে একটি মামলা নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেফতার দেখানো হয় কনস্টেবল হাসান ও তার স্ত্রী সুফিয়াকে।
এ ঘটনায় নিহত নাজমুলের স্ত্রী শ্যামলী বেগেমকে চাপ দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেওয়ায় প্রতিবাদে এবং হত্যা মামলা দায়ের ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে নগরীতে এলাকাবাসী, অটোরিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, অটো শ্রমিক পার্টি, অটো শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন নগরীতে মিছিল মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। গত শনিবার আধাবেলার হরতালও পালন করেছে অটো রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন।