রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

ঈমানের স্বাদ নিন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৫ জন নিউজটি পড়েছেন

আমাদের চারপাশে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন ছডিয়ে আছে। আমরা দৃষ্টি মেলে তাকালেই সে সব দেখতে পারি। আমাদের জোড়া চোখে আল্লাহ এত ধারণক্ষমতা দিয়েছেন, অনায়াসে যা দেখি তাই ধরে। আমরা যদি সেগুলো নিয়ে সামান্য চিন্তাভাবনা করি, তাহলে আল্লাহর সৃষ্টি কুশলতা, সৌন্দর্য সুসমা ও সর্বোচ্চ অভিরুচির সন্ধান পাবো। কুরআনে তিনি তাই বলেছেন, ‘অন্ধ ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তি কখনো এক নয়।’ জিজ্ঞেস করুন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের পালনকর্তা কে? বলে দিনÑ আল্লাহ! বলুনÑ তবে কি তোমরা আল্লাহ ছাড়া এমন অভিভাবক স্থির করেছ, যারা নিজেদের ভালো-মন্দেরও মালিক নয়? বলুনÑ অন্ধ চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা কোথাও কি অন্ধকার ও আলো সমান হয়’ (সূরা রাদ-১৬)।
আল্লাহপাক তাঁর নিদর্শনের কথা কুরআনের বহু স্থানে বলেছেন। হেদায়েত ও শিক্ষার নিয়তে যদি কেউ তার সামনে, পশ্চাতে, ডানে ও বামে তাকায় তাহলে চারদিকে অগণিত নিদর্শন সে খুঁজে পাবে এবং এটাও উপলব্ধি করতে পারবে যে, এগুলো এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি। এসবের সৃষ্টি কুশলতা ও সৌন্দর্যই বলে দেয়, এর পেছনে একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, যিনি এক ও একক।
এখন আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি প্রদর্শন করাব পৃথিবীর দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; ফলে তাদের কাছে ফুটে উঠবে যে, ‘এ কুরআন সত্য। আপনার পালনকর্তা সর্ব বিষয়ে সাক্ষ্যদাতা, এটা কি যথেষ্ট নয়? শুনে রাখো, তারা তাদের পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে সন্দেহে পতিত রয়েছে। শুনে রাখো, তিনি সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন’ (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত-৫৩-৫৪)।
‘আলাম তারা’ অর্থাৎ ‘তোমরা কি দেখনি?’ শব্দযোগে বহু আয়াত কুরআনে হাকিমে রয়েছে। এর দ্বারা সৃষ্টিজগতের বহু ঘটনা ও নিশানের উদ্ধৃতি কুরআনে রয়েছে যার সবই দেখা ও শিক্ষার জন্য। কয়েকটি দৃষ্টান্তে দেখুন, তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে নভোমণ্ডলে, যা কিছু আছে ভূমণ্ডলে, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং অনেক মানুষ। আবার অনেকের ওপর অবধারিত হয়েছে শাস্তি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, তাকে কেউ সম্মান দিতে পারে না। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন’ (সূরা হজ-১৮)।
‘তুমি কি দেখো না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর ভূপৃষ্ট সবুজ-শ্যামল হয়ে উঠে। নিশ্চয় আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে খবরদার। নভোমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে, সব তাঁরই এবং আল্লাহই অভাবমুক্ত প্রশংসার অধিকারী’ (সূরা হজ, আয়াত- ৬৩-৬৪)।
‘তুমি কি দেখো না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখো যে, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তূপ থেকে শিলাবর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা, তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুৎ ঝলক দৃষ্টিশক্তি যেন বিলীন করে দিতে চায়’ (সূরা নূর-৪৩)।
‘তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, অতঃপর তার দ্বারা আমি বিভিন্ন বর্ণের ফল-মূল উদগত করি। পর্বতসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বর্ণের গিরিপথ-সাদা, লাল ও নিকষ কালো কৃষ্ণ’ (সূরা ফাতির-২৭)।
‘তুমি কি তোমার পালনকর্তাকে দেখো না, তিনি কিভাবে ছায়াকে বিলম্বিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে একে স্থির রাখতে পারতেন। এরপর আমি সূর্যকে করেছি এর নির্দেশক’ (সূরা ফোরকান-৪৫)।
‘তুমি কি দেখো না যে, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যারা আছে, তারা এবং উড়ন্ত পক্ষীকুল তাদের পাখা বিস্তার করতঃ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই তার যোগ্য ইবাদত এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানে। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত’ (সূরা নূর-৪১)।
‘তুমি কি দেখো না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি প্রদর্শন করেন? নিশ্চয় এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে’ (সূরা লোকমান-৩২)।
মহান আল্লাহ বান্দাকে পৃথিবী পরিভ্রমণ করে সীমালঙ্ঘনকারী অবিশ্বাসীদের পরিণাম ও পরিণতি দেখার কথাও বলেছেন যেন সেখান থেকে শিক্ষা হাসিল হয় এবং অনুগত বান্দার মর্যাদা লাভ করা যায়। ‘বলো, পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখ অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছে’ (সূরা আন নমল-৬৯)।
মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম আ:-এর আল্লাহ অনুসন্ধানও কি গৃহাভ্যন্তরে চোখ বুঁজে করেছিলেন? নিশ্চয়ই নয়। কুরআন কী বলে, লক্ষ্য করুনÑ এই ভাবে আমি ইবরাহিমকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর পরিচালন-ব্যবস্থা দেখাই, যাতে সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। অতঃপর রাত্রির অন্ধকার যখন তাকে আচ্ছন্ন করল তখন সে নক্ষত্র দেখে বলল, এটাই আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হলো তখন সে বলল, যা অস্তমিত হয় তা আমি পছন্দ করি না। অতঃপর যখন সে চন্দ্রকে সমুজ্জ্বলরূপে উদিত হতে দেখল তখন বলল, এটাই আমার প্রতিপালক। যখন তা-ও অস্তমিত হলো তখন বলল, আমাকে আমার প্রতিপালক সৎপথ প্রদর্শন না করলে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হবো। অতঃপর যখন সে সূর্যকে দীপ্তিমান রূপে উদিত হতে দেখল তখন বলল, এটা আমার প্রতিপালক, এটাই সর্ববৃহৎ। যখন তা-ও অস্তমিত হলো, তখন সে বলল, হে আমার সম্প্র্রদায়! তোমরা যাকে আল্লাহর শরিক করো তার সাথে আমার কোনো সংশ্রব নেই। আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’ (সূরা আনআম-৭৫-৭৯)। আল্লাহর কালাম থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, তাঁর কুদরতের বিভিন্ন নিদর্শন দেখা, পর্যবেক্ষণ করা এবং বিবেক কাজে লাগিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছা যে, হঠাৎ কোনো দৈব-দুর্বিপাকে এগুলো হয়নি। এর স্রষ্টা একজন আছেন। তাঁর নাম আল্লøাহ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English