রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

কালো টাকা থেকে রাজস্ব মিলল ৮৮০ কোটি টাকা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৪ জন নিউজটি পড়েছেন

গত কয়েক বছর ধরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিলেও কাজে আসছে না। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে টাকার প্রবাহ বাড়াতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে সরকার। কিন্তু এতে কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। যদিও অর্থনীতিবিদরা বারবার বলছেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিলে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্যে যার প্রমাণ মিলেছে। মাত্র ৬৯৩৭ জন করদাতা কালো টাকা সাদা করেছেন। যার থেকে সরকার পেয়েছে ৮৮০ কোটি টাকা। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ গত ১ জুলাই অর্থবছর শুরু হওয়ার পর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬ হাজার ৯৩৭ জন কালো টাকা সাদা করেছেন। এ থেকে সরকার কর পেয়েছে ৮৮০ কোটি টাকা। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করেছেন ১৮৮ জন। তাদের কাছ থেকে কর আদায় হয়েছে ২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তারা সবাই আয়কর রিটার্ন দাখিল করে কালো টাকা (অপ্রদর্শিত আয়) সাদা করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর ছিল ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর রিটার্ন জমার শেষ সময়। এর আগে গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছিল এনবিআর। ওই সময় ৩ হাজার ৩৫৮ জন এ সুযোগ গ্রহণ করে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার শেয়ার বাজারে বিনিয়োগসহ নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, ফ্ল্যাট ও জমি ক্রয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ঘোষণা করে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, দেশের প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেন, ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হবে। পাশাপাশি নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা যে কোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্ন প্রদর্শন করলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। একই সময় ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলে ওই বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর দিলে, আয়করসহ কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কত জন সরকারের দেয়া এ সুযোগটি নিয়েছে তার হিসাব করেছে এনবিআর।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া ঠিক না। কারণ এতে করে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হন। কিন্তু তাদের মতো উপেক্ষা করে এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে। কালো টাকার মালিকরা বিদেশে পাচার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সরকারের উচিত হবে এ সুযোগ না দিয়ে বরং চাঁদাবাজি, ঘুষের মতো কালো টাকার উৎসগুলো বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, চলতি অর্থবছরে যেসব খাতে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয় এর বাইরে বিনিয়োগ চাঙা করতে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে আসছে সরকার। সেখানে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকৃত অর্থের ১০ শতাংশ কর দিলেই এখন প্রশ্ন করবে না এনবিআর। ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই সুযোগ আছে। এখন পর্যন্ত কেউ হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে কালো টাকা বিনিয়োগ করেননি বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, স্বাধীনতাপরবর্তী বিভিন্ন সময়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে আসছে সরকার। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মোটামুটি সাড়া পাওয়া গেলেও এরপর থেকে কোনো বারই তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। দেশে-দেশের বাইরে ব্যাপক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক বছর ধরে টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ রাখে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিলে দেশ থেকে টাকা পাচার কমবে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০-২১ সালের বাজেটে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে উন্মুক্তভাবে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আগেও ছিল। তবে আগের দেয়া সুযোগের সঙ্গে এবারের পার্থক্য হচ্ছে, আগে আয়ের উৎস নিয়ে এনবিআর প্রশ্ন করত না। দুদক কিংবা অন্য কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু এবার যে সুযোগ দেয়া হয়, তাতে কেউই প্রশ্ন করবে না। অর্থাৎ সুযোগটি অবারিত করা হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English