প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি একজন পতিত শাসকের মতোই আচরণ করা হচ্ছে। ক্যাপিটল হিলে তাঁর সমর্থকদের তাণ্ডবের পর তাঁকে অভিশংসনের কথা উঠেছে। বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মানে মানে আগেভাগে সরে পড়ো। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা জো বাইডেন পরিস্থিতিকে আইনপ্রণেতাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পদত্যাগ, অভিশংসন এবং কর্ম অক্ষম ঘোষণার চাপে থাকা ক্ষমতার আর মাত্র বাকি দেড় সপ্তাহ ট্রাম্পের জন্য এখন বেশ দীর্ঘ সময় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা কেউ আর শুনছে না। ৮ জানুয়ারি টুইটার ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়াতে পারে বলেই টুইটার এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফেসবুকও তাঁর অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।
ক্ষমতার শেষ অবস্থায় এসে বেপরোয়া আচরণ করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করতে না পারেন, এ নিয়ে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি নিরাপত্তা প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাঁর এমন উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেছেন, অন্য সব বিকল্পও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী বলবৎ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে তাঁর দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি বা প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এখনো যদি ট্রাম্প সসম্মানে পদত্যাগ না করেন, তাহলে তাঁকে অভিশংসন মোকাবিলা করতে হবে। কংগ্রেসে ভোটাভুটির জন্য দ্রুত অভিশংসন প্রস্তাব আনতে ইতিমধ্যে খসড়া তৈরি করা হয়ে গেছে। আসছে সোমবারেই এমন প্রস্তাব কংগ্রেসে উপস্থাপিত হতে পারে। আগের চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে এমন অভিশংসন প্রস্তাব করা হবে। আইন প্রণেতাদের মধ্যে এ নিয়ে তাড়না কাজ করছে।
৬ জানুয়ারি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে একজন ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে এমন পরিকল্পিত সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে, তা কেউ মেনে নিতে পরছেন না। ঘটনার পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর এমন বেপরোয়া আচরণের জন্য কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি। তাঁর কথায় কোনো লজ্জার আভাস ছিল না। উপরন্তু, তিনি আবার দম্ভের সঙ্গে বলছেন, জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি থাকবেন না।
পরিস্থিতি এমন নাজুক হওয়ার পরও ট্রাম্প বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাননি। সর্বশেষ পাঁচটি লাশের ওপর দাঁড়িয়ে এখন তিনি তাঁর নির্বাচনে কারচুপির ভুয়া দাবি উচ্চারণ করছেন। যদিও তাঁর কিছু কট্টর সমর্থক ছাড়া এসব কথা আর কেউ শুনছে না। জো বাইডেন বলেছেন, তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত না থাকাই ভালো।
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও জো বাইডেনে কথা বলেছেন। জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়টি কংগ্রেসের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজের ক্ষমতা গ্রহণের পর জরুরি করণীয় নিয়েই বেশি মনোযোগী এখন। তিনি বলছেন, কংগ্রেস ট্রাম্পের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তাই অনুসরণ করবেন। এ নিয়ে ধীরে চলার ওপরই প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি।