রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন

মহান আল্লাহ মহাক্ষমতাধর। তাঁর কুদরতে সব কিছুর সৃষ্টি। তাঁর কুদরতের কিছু অনুপম নিদর্শন হলো—

নিকৃষ্ট বস্তু থেকে উত্কৃষ্ট জীবের সৃষ্টি : পৃথিবীতে যত ধরনের উপাদান রয়েছে, তার মধ্যে মাটি সর্বনিকৃষ্ট উপাদান। এতে অনুভূতি, চেতনা, উপলব্ধি ইত্যাদি কিছুই নেই। আগুন, পানি, বায়ু ও মাটি এসবের মধ্যে মাটি ছাড়া অন্য কিছুর মধ্যে কিছু না কিছু গতি ও চেতনা অনুভূত হয়। আল্লাহ মানব সৃষ্টির জন্য নিকৃষ্ট বস্তুকেই বেছে নেন এবং তাকে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের আসনে সমাসীন করেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি নিদর্শন এই যে তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছ।’ (সুরা : আর-রুম, আয়াত : ২০)

নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃষ্টি : বিশাল আকাশ ও বিস্তৃত ভূমির একক স্রষ্টা মহান আল্লাহ। এটি তাঁর কুদরতের আরেকটি অনুপম নিদর্শন। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘তাঁর এক নিদর্শন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃষ্টি এবং এতদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি যখন ইচ্ছা এগুলোকে একত্রিত করতে সক্ষম।’ (সুরা : আশ-শুরা, আয়াত : ২৯)

ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা : বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের বিভিন্ন ভাষা, বিভিন্ন বর্ণনাভঙ্গি আল্লাহ তাআলার কুদরতের অপূর্ব নিদর্শন। কেউ সুন্দর, কেউ কালো, কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কারো ভাষা আরবি, কারো ভাষা হিন্দি, কারো ভাষা ইংরেজি, কারো ভাষা বাংলা, কারো ভাষা উর্দু, কারো ভাষা ফারসি, কারো ভাষা তুর্কি ইত্যাদি। এসব মহাক্ষমতাধর আল্লাহ তাআলার কুদরতের নিদর্শন। ইরশাদ হয়েছে, ‘করুণাময় আল্লাহ! শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা (ভাষা)।’ (সুরা : রাহমান, আয়াত : ১-৪)

নিদ্রার ব্যবস্থা : নিদ্রা মানুষের একটি অন্যতম নিয়ামত। এটি আল্লাহর কুদরতের বড় নিদর্শন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, রাতকে করেছি আবরণ। দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়, নির্মাণ করেছি তোমাদের মাথার ওপর মজবুত সপ্ত-আকাশ।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ৯-১২)

বিদ্যুতের চমক প্রদর্শন : মহান আল্লাহ মানুষকে বিদ্যুতের চমক দেখান। এতে মানুষ দুটি বিষয় নিয়ে ভাবে। একটি হলো, এটি পতিত হওয়ার ও জীবনহানি হওয়ার ভয়। আরেকটি হলো বৃষ্টির সম্ভাবনা। বৃষ্টির ফলে শুষ্ক ও মৃতপ্রায় জমিন পুনর্জীবন লাভ করে। বিভিন্ন ধরনের ফসল ও ফল জন্মায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর আরো নিদর্শন—তিনি তোমাদের দেখান বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসার জন্য এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর এর মাধ্যমে ভূমির মৃত্যুর পর তা পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২৪)

বাতাস সৃষ্টি : আল্লাহর কুদরতের আরেকটি অনুপম নিদর্শন হলো বাতাস সৃষ্টি। এ বাতাসের মাধ্যমে মানুষকে তাঁর অনুগ্রহ আস্বাদন করান। বাতাস থেকে মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করে। অক্সিজেন ছাড়া কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাগুলোর চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ আকাশ থেকে যে পানি নাজিল করেন, এর মাধ্যমে মৃত জমিন সজীব করে তোলেন এবং তাতে ছড়িয়ে দেন সব রকম জীবজন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন মেঘমালা আসমান ও জমিনের মধ্যে বিচরণ করে। নিশ্চয়ই এ সব কিছুর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৪)

জীবিকার ব্যবস্থা : মহান আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ এবং জমিনের মাধ্যমে সব সৃষ্টির জীবিকার সুব্যবস্থা করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তুমি জিজ্ঞেস করো, কে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে জীবিকা দান করেন কিংবা কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক? কে জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করেন এবং কে মৃতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন? কে করেন কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থাপনা? তখন তারা বলে উঠবে, আল্লাহ! বলে দাও, তার পরও ভয় করছ না?’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৩১)

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English