সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া মামলায় চার্জশিটভুক্ত আট ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হলো আলোচিত এই দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার।
এর আগে পুলিশ সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে মামলার চার্জশিটভুক্ত আট আসামিকে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পিপি রাশিদা সাইদা খানম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চার্জশিটভুক্ত সব আসামির উপস্থিতিতে আদালতের বিচারক চার্জশিটের ওপর আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী (২১)। এ সময় ছাত্রাবাসের আঙিনায় তাঁর স্বামীকে আটকে রাখা হয়। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী মামলা করেন। এতে ছাত্রলীগের একটি পক্ষের কর্মী সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে শাহ রনি ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়।
এজাহারের বাইরে আসামি করা হয় আরো দুই-তিনজনকে। পরে পলাতক থাকা মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। এর মধ্যে এজাহারে নাম না থাকা মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন ও আইনুদ্দিনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার আটজনকেই কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
গত বছরের ১ ও ৩ অক্টোবর- এই দুই দিন এজাহারভুক্ত ছয় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকার ল্যাবে। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রথমে আদালতে এসে পৌঁছায়। পরে তা তদন্ত কর্মকর্তার হাতে আসে।
এর আগে একই বছরের ২২ নভেম্বর আসামি সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ঘটনার দিন রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানের দখলে থাকা কক্ষে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে। এ মামলায় পরে সাইফুরের সঙ্গে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে রনিকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তকালে মোট ৪৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।