‘দেশের মাটিতে বাংলাদেশ ফেভারিট’ ফিল সিমন্সের এই স্বীকৃতি কিছুটা সৌজন্য থেকে, কিছুটা কন্ডিশন ও সফররত উন্ডিজ দলের সামর্থ্যের বাস্তবতায়। বাংলাদেশে সেরা দল নিয়ে খেলে হেরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা খুব তো পুরোনো নয় তার কাছে। জেসন হোল্ডাররা তো দু’বছর আগেই ওয়ানডে ও টেস্টে হেরেছিলেন টাইগারদের কাছে। ফিল সিমন্সের স্মৃতিতে সে অভিজ্ঞতা কিঞ্চিত হলেও রয়েছে।
সেখানে দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড় নিয়ে টাইগারদের মোকাবিলা করা কতটা কঠিন হতে পারে, মাঠে না নেমেও বুঝতে পারছেন কোচ। এজন্যই মনস্তাত্ত্বিক গেমে স্বাগতিকদের ফেভারিটের তকমা দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখলেন। সিরিজের ফল ভালো হলে তাতে তৃপ্তিটা বেশি পাবেন।
কভিড আতঙ্কে বিশ্ব যখন টালমাটাল সেই কঠিন মুহূর্তে ক্রিকেট মাঠে নেমেছিল উইন্ডিজ। গত বছর জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বায়োসিকিউর বাবলে টেস্ট সিরিজ খেলে বাহ্বা কুড়িয়েছিলেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। নিউ নরমাল সময়ে প্রথম দল হিসেবে নিউজিল্যান্ডেও খেলেছেন হোল্ডাররা। কভিড ভীতিতে বাংলাদেশ সফর থেকে তারাই কিনা সরে দাঁড়িয়েছেন। বাধ্য হয়েই বাংলাদেশ সফরের জন্য বিকল্প দল গড়তে হয়েছে। এতে ক্ষতির চেয়ে লাভ বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশের কাছে দুই সংস্করণে হারলেও বিকল্প ক্রিকেটাররা তৈরি হয়ে যাবেন। মঙ্গলবার তাই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের ছোট করেননি; বরং এই খেলোয়াড়দের নিয়েই ভালো করার ইচ্ছা পোষণ করলেন তিনি, ‘প্রস্তুতি ভালো হলে সিরিজ ভালো যাবে। প্রথমে ওয়ানডে সিরিজ পরে টেস্ট। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে ভালো করার সুযোগ থাকবে। আমরা ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উদ্দেশ্যেই ক্যারিযীয়া ছেড়েছি। আপনারা হয়ত বলছেন আমাদের পুরো দল নেই, কিন্তু আমাদের এমন একটি দল আছে যারা এই কন্ডিশনে জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত।’
বায়োসিকিউর বাবলে খেলে অভ্যস্ত উইন্ডিজ ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশের চেয়ে এই অভিজ্ঞতায় এগিয়ে তারা। এই অভিজ্ঞতাকে সুযোগ হিসেবে দেখেন ক্যারিবীয় কোচ সিমন্স, ‘বায়ো-বাবলে খেলা কঠিন। হোটেল-মাঠ করেই সময় কাটে। এভাবে দুটো সিরিজ খেলে ফেলেছি আমরা। যদিও বায়ো-বাবলে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেক ক্রিকেটারই এই দলে নেই। এর পরও আশা করি সমস্যা হবে না।’
১০ জানুয়ারি রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকায় পৌঁছেছে ৩৮ সদস্যের উইন্ডিজ ক্রিকেট দল। হোটেল সোনারগাঁওয়ে তিন দিনের আইসোলেশন করছে তারা। প্রথম কভিড টেস্টে নেগেটিভ হওয়ায় আজ হবে দ্বিতীয় টেস্ট। সবার রিপোর্ট নেগেটিভ হলে কাল থেকে মাঠে যেতে পারবেন তারা।