বরিশাল নগরীসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে চলাচলরত অবৈধ ইজিবাইকসহ বিআরটিএর অনুমোদনকৃত অটোরিকশা চলাচলে বিভিন্ন সংগঠনের স্টিকার ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সড়কে এসব গণপরিবহন চলাচল করতে হলে কথিত মালিক সমিতি, শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন, বিভিন্ন পত্রিকার স্টিকার ব্যবহার করে বেশ কিছু চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ।
অসহায় মালিক ও চালকরা হয়রানি থেকে রেহাই পেতে প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মাসোহারা দিয়ে সড়কে গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। চাঁদাবাজির ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগসহ ভুক্তভোগীরা মামলা দায়ের করলেও বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে টাকা আদায় করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ঊর্ধ্বতনরা জানান, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধসহ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মেট্রোপলিটন আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির বৈঠকে নানান সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তার বাস্তবায়ন নেই। কমিটির একাধিক সদস্য জানান, অবৈধ ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন নেই। ফলে বৈধ যানবাহনের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ অবৈধ যানবাহন বিভিন্ন সংগঠনকে মাসিক চাঁদা দিয়ে নগরীতে চলাচল করছে। এতে করে বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, যানজট, দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। বিআরটিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সমন্বিত উদ্যোগ নিলেই এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহানগরীসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে চলাচলরত অবৈধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এবং বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিকশা, সিএনজি, আলফা-মাহিন্দ থেকে পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার নামে স্ব স্ব এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘ দিন থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে আসছে। ঐ চক্রটি প্রতিমাসে প্রশাসনের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ সুযোগে বিভিন্ন পত্রিকার স্টিকার যুক্ত করে এবং নামে-বেনামে সংগঠন খুলে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চাঁদা তুলছে কয়েকটি চক্র। শুধু নগরীতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক সংগঠনের নাম করে প্রতিমাসে ৪ হাজারের বেশি বাহন থেকে আদায় করা হচ্ছে অর্ধকোটি টাকা। ইজিবাইক চালকরা জানান, প্রতিটি ইজিবাইক থেকে “বরিশাল জেলা ও মহানগর ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক কল্যাণ সংগঠন”-এর নামে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে চাঁদাবাজি করা হয়।
বিআরটিএর বরিশাল উপপরিচালক মো. জিয়াউর রহমান জানান, মেট্রোপলিটন আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির বৈঠকে যানবাহন চলাচলে নানান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিআরটিএর পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ নিলেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মেট্রোপলিটন আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সভাপতি বিএমপি কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, এরই মধ্যে চাঁদাবাজির ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়েরসহ ভুক্তভোগীদের নানাভাবে সহায়তা করেছে। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা প্রতিদিনই অবৈধ হলুদ ইজিবাইক এবং কাগজপত্র বিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটক ও মামলা দায়ের করছেন। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকেও সড়কে কোনো প্রকার চাঁদা না দিতে চালক এবং মালিকদের কাছে নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়ন বিগত দুই বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।