হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা হাফেজ সাইয়েদ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, আমাদের দ্বীন-ধর্ম হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত ইসলাম। এ দ্বীন আল্লাহর জমিনে প্রচার করাই হচ্ছে আমাদের প্রধানতম কাজ। নবী-রাসুলগণ যুগে যুগে একামতের দ্বীনের কাজই করে গেছেন। নবীর উত্তরসূরী হিসেবে দেশের ওলামা মাশায়েখ ও মাদ্রাসা ছাত্রদের সেই দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। এ দায়িত্ব পালনে কোন বাধা আসলে তৌহিদী জনতাকে জান-মালের বিনিময়ে তা প্রতিহত করতে হবে।
তিনি বলেন, আজকে নমরুদ-ফেরাউনের উত্তরসূরীরা আমাদের ঈমান-আকিদা নিয়ে ছিনি-মিনি খেলছে। আমাদেরকে মামলার ভয় দেখায় আর ওয়াজ মাহফিলে বাধা প্রদান করে। আমি ও মাওলনা মামুনুল হকসহ আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট মামলা দিয়েছে। এগুলো কিছুই হবে না- ইনশাল্লাহ। কোন মামলার ভয় দেখিয়ে সত্য কথা বলা থেকে আমাদের বিরত রাখা যাবে না। আমি হকের উপর থেকেই মরতে চাই; কোন অন্যায় আবদার আমাকে দিয়ে হবে না।
তিনি গতকাল শুক্রবার বাদে জুমা চট্টগ্রামের ফটিকছড়তে অবস্থিত দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আল জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসার ৯৮তম দুইদিন ব্যাপী বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ ইসলামী মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা শাহ মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি রহিমুল্লাহ, মাওলানা হারুন আজিজী নদভী ও মুফতি ইকবাল আজিমপুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ ইসলামী মহাসম্মেলনে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সমসাময়িক বিষয়ে বয়ান করেন, হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক মুফতিয়ে আজম আল্লামা আব্দুস সালাম চাঁটগামী, হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদি, নায়েবে আমীর মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, মুফতি আরশাদ রহমানি, মুফতি আব্দুল হামিদ, মুফতি মাহমুদ হাসান ভূজপুরী, যুগ্ম-মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবিব, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা লোকমান হকিম, খোরশেদ আলম কাসেমী, আব্দুল হক হক্কানী, মুফতি মাহমুদ হাসান গুনবী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীসহ দেশ বরণ্যে ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামী স্কলারগণ।
শুক্রবার বিকেলে আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে দুইদিন ব্যাপী এ মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে জুমার নামাজে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।