রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

নবীর অনুসরণেই মুক্তি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪০ জন নিউজটি পড়েছেন

আল্লাহ তায়ালার নিকট বান্দা তখনই মুমিন সাব্যস্ত হয়, যখন সে রাসূলকে নিজের সকল বিষয়ের সিদ্ধাস্তদাতা (হাকাম) বলে স্বীকার করে এবং তার সকল সিদ্ধাস্ত মনেপ্রাণে মেনে নেয়। সকল দ্বিধা ও সংশয় ত্যাগ করে তার ফয়সালার সামনে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পিত করে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূল (সা.) এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সুরা আহযাব: ২১) এই উত্তম আদর্শ দ্বারা ঐ জীবনাদর্শই উদ্দেশ্য, যা সুরায়ে জাসিয়ায় এভাবে বলা হয়েছে, ‘এরপর আমি আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ বিধানের উপর। সুতরাং আপনি তা অনুসরণ করুন। অজ্ঞদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আল্লাহর মোকাবিলায় তারা আপনার কোনো উপকার করতে পারবে না। জালিমরা একে অপরের বন্ধু আর আল্লাহ তো মুত্তাকিদের বন্ধু। এই কোরআন মানবজাতির জন্য সুস্পষ্ট দলিল এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী জাতির জন্য পথনির্দেশ ও রহমত। (সুরা জাসিয়াহ : ১৮-২০)

কালিমায়ে তাওহিদ ও কালিমায়ে শাহাদতে আমরা এই শরিয়ত ও এই আদর্শকে সত্যতা ও যথার্থতার স্বাক্ষ্য দেই এবং মনেপ্রাণে তা কবুল করার ঘোষণা দান করি। এজন্য আমাদের উপর ফরজ, এই আদর্শের আলোকে আমাদের পুরো জীবন, জীবনের প্রতিটি অঙ্গনকে যাচাই করা। অতপর যেখানেই ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা দেখা যায় সংশোধনের চেষ্টা করা।

নবীজির জীবনী চর্চায় বিশেষভাবে নিম্নের বিষয়গুলোতে আমাদেরকে লক্ষ্য রাখা দরকার।

সঠিক জ্ঞান
আমরা তার সরাসরি সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হলেও আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্যও সিরাতের সঠিক জ্ঞান লাভের পথ খোলা রেখেছেন। কোরআন মজিদ হচ্ছে নবী-জীবনকে জানার সবচেয়ে বড় উৎস। হাদিস ও সিরাতের নির্ভরযোগ্য কিতাব আমাদের সামনে আছে। সুন্নতের অনুসারী আল্লাহওয়ালাগণ বিদ্যমান আছেন। আমরা যদি গভীর মনোযোগ ও চিস্তা-ভাবনার সঙ্গে কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করি (কোনো সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তাফসিরের কিতাবের সহযোগিতা নিয়ে), আহলে ইলমদের সঙ্গে পরামর্শ করে হাদিস ও সিরাতের নির্ভরযোগ্য কিতাবপত্র অধ্যয়ন করি এবং সুন্নতের অনুসারী মাশায়েখের সাহচর্যে বসি তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরাও সিরাতের সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারব।

কিন্তু আমরা বড়ই উদাসীনতার শিকার। প্রথমত সিরাত অধ্যয়ন এবং সিরাতের পাঠ-পঠনের বিষয়ে আমরা গুরুত্ব কম দেই, দ্বিতীয়ত সিরাত ও মিলাদ সংক্রাস্ত অনেক মওযূ’ ও বানোয়াট বর্ণনা খুব সহজেই বলতে থাকি। অথচ রাসূল (সা.) এর নামে কোনো কিছু প্রস্তুত করে তা হাদিস বলে প্রচার করা যেমন হারাম ও কুফরের মতো গুনাহ তেমনি তার সম্পর্কে দলিল-প্রমাণহীন কোনো কিছু বলা এবং ভিত্তিহীন বর্ণনার আলোকে তার সম্পর্কে কোনো কিছু বলাও হাদিস জাল করার অস্তর্ভুক্ত ও অনেক বড় কবিরা গুনাহ। একই সাথে এটা তার প্রতি অনেক বড় ধৃষ্টতা ও বে আদবী।

ঈমান ও নির্ভরতা
আজ আমাদের বড় দুর্ভাগ্য এই যে, আমাদের জীবন সংশয় ও স্ববিরোধিতায় পূর্ণ। আমাদের ঈমান মুহাম্মাদ (সা.) এর উপর অথচ আমাদের জীবনাদর্শ হচ্ছে পশ্চিমা সভ্যতা। সুন্নতে নববীর পরিবর্তে পশ্চিমা সংস্কৃতি আমাদের কাছে অনুকরণীয়। বেশভূষায় আমরা আল্লাহর রাসূলের অনুসারী নই, পশ্চিমাদের অনুসারী।

আমরা যদি রাসূলে কারিম (সা.) এর সত্যবাদিতা, তার সুন্নাহর যথার্থতা এবং শুধু ও শুধু তারই জীবনযাপন পদ্ধতি ‘উসওয়াহে হাসানাহ’ হিসেবে এবং মানবতার শুদ্ধি ও সফলতার একমাত্র উপায় হিসেবে অস্তরের অস্তস্তল থেকে গ্রহণ করতে পারি এবং পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও নির্ভরতার সঙ্গে এর উপর অটল অবিচল থাকতে পারি, আর মন-মুখ ও চাল-চলনে একথা প্রমাণ করতে পারি যে-

رضيت بالله ربا، وبالإسلام دينا، وبمحد صلى الله عليه وسلم نبيا.

(আমি আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট) তাহলেই আমরা মুক্তি পাব।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা
নবী কারিম (সা.) এর প্রতি এবং তার সুন্নাহ ও আদর্শের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা একটি সর্বজনবিদিত বিষয়। তাদের গোটা জীবনই ছিল এর বাস্তব প্রমাণ। পক্ষাস্তরে এ বিষয়ে আমাদের দূরত্ব অত্যস্ত মর্মাস্তিক। আমাদের সাধারণ অবস্থা এই যে, মুখে ভালবাসার দাবি অথচ জীবনের সকল কাজ এর বিপরীত। আর অসংখ্য মানুষের মধ্যে আরো যা আছে তা হল মুহাববতের নামে রাসূল (সা.) এর প্রধান দুই শিক্ষা তাওহিদ ও সুন্নাহ বিরোধিতা এবং বিদআতে লিপ্ত হওয়া।

নিজ জীবনে প্রয়োগ
সিরাত চর্চার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম ও আমাদের মাঝে সবচেয়ে বড় পার্থক্য এই যে, তারা সুন্নতে নববিয়্যাহ ও উসওয়ায়ে হাসানার প্রতিটি অংশকেই নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন। অথচ আমরা শাখাগত বিষয়গুলো তো পরের কথা, মৌলিক বিষয়গুলো থেকেও উদাসীন।

মোটকথা, সাহাবায়ে কেরামের কাছে হক-বাতিল, কল্যাণ-অকল্যাণ, আলো-অন্ধকার, সুপথ-বিপথ ও সফলতা-ব্যর্থতার একটিমাত্র মাপকাঠিই ছিল। আর তা হল মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, তার প্রতি অবতীর্ণ সর্বশেষ গ্রন্থ কোরআনুল কারিম, তাকে প্রদত্ত সর্বশেষ জীবনপদ্ধতি-শরিয়তে মুহাম্মাদিয়া, তার পবিত্র সিরাত ও সুন্নাহ তথা উসওয়ায়ে হাসানাহ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English