মাস্টার মাইন্ড স্কুলের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই এবার মোহাম্মদপুরে বন্ধুর বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের এক ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটেছে।
ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রোববার সকালে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, গত শুক্রবার উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় ওই তরুণী ও তার বন্ধু রায়হান খাওয়া-দাওয়ার পর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হোমস নামে আবাসিক এলাকায় তাদের বন্ধুর তাফসিরের বাসায় যায়। ওই দিনই সেখান থেকে অসুস্থ অবস্থায় ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ওসি বলেন, দুজনে মদপান করে ওই বাসায় যাওয়ার পর ওই তরুণীর সঙ্গে তার বন্ধুর শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
এদিকে শনিবার ওই তরুণীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ ওই তরুণীর বন্ধু রায়হান এবং তাদের অন্য দুই বন্ধু কোকো ও তাফসীরকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, আজ আদালতে পাঠিয়ে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে, রিমান্ডে আনা তিনজনের কাছ থেকে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ওই তরুণী ও তার বন্ধুরা সবাই ইউ ল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানান ওসি।
ছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এনায়েত হোসেন বলেন, শনিবার সকাল সাতটার দিকে অসুস্থ্য এক ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার দুই সহপাঠি। হাসপাতালে আনার পর দেখা যায় তার রক্তচাপ কম ও পালস পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
ডা. এনায়েত আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি ধানমন্ডি থানায় ও পরে মোহাম্মদপুর থানায় জানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহ নিয়ে যায়।
চিকিৎসকদের ধারণা, বিষাক্ত কোন পানীয় বা মদ পানে ছাত্রীটির মৃত্যু হতে পারে। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।