মুহাম্মদ আসাদ ২ জুলাই ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে তত্কালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির লেম্বার্গে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক নাম ছিল লিওপোল্ড ওয়াসিস। পারিবারিকভাবে তাঁরা ছিলেন ইহুদি ধর্ম যাজক। মুহাম্মদ আসাদ পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে ২২ বছর বয়সে মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে কাজ করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি পশ্চিম পাঞ্জাবের ‘দ্য ডিপার্টমেন্ট অব ইসলামিক রিকনাস্ট্রাকশন’-এর পরিচালক নিযুক্ত হন এবং জাতিসংঘে পাকিস্তানের বিকল্প প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মক্কার পথ, সংঘাতের মুখে ইসলাম ও কোরআনের বার্তা তাঁর বইগুলোর মধ্যে বিখ্যাত। মুহাম্মদ আসাদকে ইউরোপে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম পণ্ডিত মনে করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ তিনি স্পেনের গ্রানাডার মিজাসে ইন্তেকাল করেন।
ইসলামের শিক্ষা এতটা সুদৃঢ় ও প্রায়োগিক হওয়ার পরও মুসলিমরা কেন তার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ছেড়ে দিয়েছে তা বোঝার চেষ্টা করি। এই প্রশ্নটি নিয়ে আমি লিবিয়ার মরুভূমি থেকে পামির মালভূমি এবং বসফরাস থেকে আরব সাগরের মধ্যবর্তী বহু চিন্তাশীল মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করেছি। আর এটা আমার একটি আবেশে পরিণত হয়েছিল, যা মুসলিম বিশ্ব নিয়ে আমার সব বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রহকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। প্রশ্নটি ক্রমেই আমার ভেতর জোরালো হয়ে উঠছিল। এমনকি একজন অমুসলিম হয়ে আমি মুসলিমদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলছিলাম, যেন আমি তাদের অবহেলা থেকে ইসলামকে রক্ষা করতে চাইছি। অথচ অগ্রগতি ছিল দুঃসাধ্য।
১৯২৫ সালের শরৎকালে আফগানিস্তানের একজন তরুণ গভর্নর আমাকে বললেন, ‘আপনি একজন মুসলিম; কিন্তু আপনি নিজেকে চেনেন না।’ তাঁর কথাগুলো আমাকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। ১৯২৬ সালে আমি ইউরোপে ফিরে আসার পর বুঝতে পারি, আমার মানসিক অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে ইসলাম গ্রহণ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।